সুপ্রিম কোর্টের ধমকেও নীরব সিবিএসই! কলেজে ভর্তি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় লক্ষাধিক পড়ুয়া – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির পুনর্মূল্যায়নের ফলপ্রকাশে বিলম্বের জেরে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে লক্ষাধিক পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট ফলপ্রকাশের দেরি নিয়ে বোর্ডকে ভর্ৎসনা করে এবং শুক্রবারের মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও বোর্ডের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বার্তা আসেনি। ফলে একদিকে যেমন কলেজগুলিতে ভর্তি প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে সংশোধিত ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা পড়ুয়ারা।
ভর্তির মুখে নম্বরের টানাপোড়েন
সৌদি আরবের এক প্রবাসী পড়ুয়ার আবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আসে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, ফলপ্রকাশে দেরির অর্থ পড়ুয়াদের ভর্তি প্রক্রিয়া পিছিয়ে বা পুরোপুরি বানচাল হয়ে যাওয়া। তাই প্রয়োজনে রাত জেগে কাজ করে দ্রুত সমাধান সূত্র বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বোর্ডকে। সিবিএসই সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৭ জুনের মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী নম্বর পুনর্মূল্যায়ন ও ভেরিফিকেশনের জন্য আবেদন করেছে। এই পড়ুয়াদের কাছে সামান্য কয়েক নম্বরের বৃদ্ধিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ওপর ভিত্তি করেই তারা বিভিন্ন কলেজে ভর্তির ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ যোগ্যতামান পেরিয়ে কাঙ্ক্ষিত কোর্সে বা স্কলারশিপের সুযোগ পেতে পারে।
উদ্বেগে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ
সিবিএসই-র এই বিলম্বের সবচেয়ে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের ক্ষেত্রে। বোর্ডের এই ধীরগতির কারণে বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ভর্তির পূর্বনির্ধারিত নির্ঘণ্ট স্থগিত রাখছে না। কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরে সংশোধিত মার্কশিট জমা দেওয়ার সুযোগ দিলেও কাউন্সেলিং ও আসন বরাদ্দের কাজ নির্দিষ্ট সময় মেনেই চলছে। ফলে পড়ুয়ারা চরম দ্বিধায় ভুগছে। তারা বুঝতে পারছে না যে সংশোধিত নম্বরের জন্য অপেক্ষা করবে, নাকি বর্তমান নম্বরের ভিত্তিতেই ভর্তি ফি জমা দিয়ে কোনও একটি আসন গ্রহণ করবে। বোর্ডের লাগাতার নীরবতায় টেলিগ্রাম গ্রুপ ও ওয়েবসাইটে চোখ রাখা ছাড়া এই মুহূর্তে তাদের সামনে আর কোনও উপায় নেই।
