সুপ্রিম কোর্টের নয়া নির্দেশিকা: রায় সংরক্ষিত রাখার ৩ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি বাধ্যতামূলক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার দিনেই দীর্ঘ ১৫ মাসের প্রতীক্ষার অবসান
দেশের উচ্চ আদালতগুলোর জন্য রায় ঘোষণার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার দিনেই সুপ্রিম কোর্ট নজিরবিহীনভাবে দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে সংরক্ষিত একটি মামলার চূড়ান্ত রায় প্রদান করেছে। ৪২ বছর আগে দিল্লিতে সংঘটিত একটি দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা আপিলের প্রেক্ষিতে বিচারপতি পিএস নরসিমা ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। ১৯৮৪ সালে ট্রাক চালক ও তার সহকারীর মৃত্যুর ঘটনায় ২০০৯ সালে সেশন কোর্ট অভিযুক্তদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল, যা পরে ২০১৩ সালে দিল্লি হাইকোর্টে বহাল থাকে।
রায় ঘোষণা ও সাজার পরিবর্তন
দীর্ঘ ১৫ মাস রায় সংরক্ষিত থাকার পর শুক্রবার বিচারপতি মনোজ মিশ্র পর্যবেক্ষণ করেন যে, অভিযুক্তরা যে পরিকল্পিতভাবে ট্রাক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালক ও তার সহকারীকে হত্যা করেছিল, তা প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আদালত অভিযুক্ত গোপী চাঁদ ওরফে পাপ্পুর সাজা বহাল রাখলেও দণ্ডবিধিতে পরিবর্তন এনেছে। তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কমিয়ে ১৮ বছরের কারাদণ্ডে রূপান্তর করা হয়েছে, যা সে ইতিমধ্যে কারাভোগ করে ফেলেছে।
বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ হাইকোর্টগুলোর জন্য রায় ঘোষণার ক্ষেত্রে কঠোর সময়সীমার নির্দেশিকা জারি করেছেন। সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী দ্রুত বিচার পাওয়ার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এই নির্দেশনার ফলে ভবিষ্যতে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন মামলার রায় দ্রুত ঘোষণার প্রবণতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
