‘সুপ্রিম কোর্টে টেনে নিয়ে যাব!’ কৃষ্ণনগরে ডিম-পচা টমেটো নিয়ে বিজেপির হামলার ছক জানতেই গর্জে উঠলেন মহুয়া – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে ডিম ও পচা টমেটো ছোড়ার ছক কষেছিল বিজেপির মহিলা মোর্চা! তবে সেই খবর পেতেই এবার রণংদেহী মেজাজে অবতীর্ণ হলেন তৃণমূলের এই দাপুটে নেত্রী। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ক্যামেরার সামনে যাদের মুখ দেখা গিয়েছে, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। থানা থেকে শুরু করে হাইকোর্ট, এমনকি প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাবেন তিনি।
শুক্রবার কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে একটি মামলায় মহুয়া মৈত্রের হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। সেই খবর পেয়েই আদালত চত্বরে হুলস্থুল বাঁধাতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েন বিজেপির মহিলা কর্মীরা। প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিওতে এক বিজেপি কর্মীকে বলতে শোনা যায়, ‘মহুয়া মৈত্র আমাদের দেবী কালীকে নিয়ে খারাপ কথা বলেছিল। সেই রাগেই ওর গায়ে ডিম ছুড়ে মারব।’ পাশ থেকে অন্য এক বিক্ষোভকারী আবার যোগ করেন, ‘শুধু ডিম নয়, পচা ডিম আর পচা টমেটোও এনেছি আমরা।’ যদিও শেষ পর্যন্ত কোনও এক অজ্ঞাত কারণে মহুয়া আদালতে না যাওয়ায় বড়সড় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়।
‘আমায় উজ্জ্বল বিশ্বাস ভেবে ভুল করবেন না’— সমাজমাধ্যমে হুঙ্কার মহুয়ার
এই ঘটনার ভিডিওটি সামনে আসতেই তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। মহুয়া মৈত্র হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “আমায় উজ্জ্বল বিশ্বাস ভেবে ভুল করবেন না। আমি জনগণের ভোটে জিতে আসা সাংসদ। ভিডিওতে সকলের মুখ স্পষ্ট দেখা গিয়েছে। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করব। প্রথমে থানায় যাব। যদি ভাবেন এখন পুলিশ আপনাদের হয়ে কাজ করবে, তবে মনে রাখবেন আমি হাইকোর্টে চলে যাব। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে টেনে নিয়ে যাব।” বিজেপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে তাঁর তোপ, “এরপরে যখন থানায় গিয়ে হাজিরা দিতে হবে, তখন বিজেপির কোনও নেতা কিন্তু আপনাদের বাঁচাতে আসবে না।”
‘আন্তর্জাতিক আদালতে যান!’ পাল্টা ঝাঁটা-জুতোর হুঁশিয়ারি বিজেপির
মহুয়ার এই সুপ্রিম কোর্টের হুঁশিয়ারিকে অবশ্য একবিন্দু পাত্তা দিতে নারাজ গেরুয়া শিবির। পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বিজেপির নদীয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার কটাক্ষের সুরে বলেন, “মহুয়া দেবীকে বাঙালির রেওয়াজ অনুযায়ী ডিম, টমেটো, কলা, বেগুন দিয়ে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য দাঁড়িয়েছিলেন আমাদের মহিলা কর্মীরা। এতে যদি উনি হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট যাওয়ার হুমকি দেন, তবে আমরা বলব উনি প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতেও যেতে পারেন।” এখানেই না থেমে তিনি আরও একধাপ এগিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ভবিষ্যতে উনি যখনই কৃষ্ণনগরে ফিরবেন, ওঁকে ঝাঁটা আর জুতো দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হবে।”
