সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি, আজই কি বড় সিদ্ধান্ত!

সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি, আজই কি বড় সিদ্ধান্ত!

সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি: চরম আর্থিক চাপের যুক্তি রাজ্যের, সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন

বাংলা নববর্ষের দিনে সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ ডিএ (Dearness Allowance) মামলার শুনানি হতে চলেছে। রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে দায়ের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চে আজ দুপুরে এই শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট এক নির্দেশনায় জানিয়েছিল, চলতি অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার আগেই অর্থাৎ ৩১ মার্চের মধ্যে পঞ্চম পে কমিশনের বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। প্রথম কিস্তি ৬ মার্চের মধ্যে প্রদানের নির্দেশ ছিল। পাশাপাশি, বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ কীভাবে এবং কত কিস্তিতে প্রদান করা হবে, তা নির্ধারণের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় আদালত। পাশাপাশি ১৫ এপ্রিলের মধ্যে রাজ্যকে একটি ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তবে ধার্য সময়ের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায়, সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধির আবেদন নিয়ে নতুন করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য সরকার।

আর্থিক সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতার দোহাই রাজ্যের

রাজ্য সরকার তাদের আবেদনে সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে যে, বর্তমানে তারা তীব্র আর্থিক সংকটের সম্মুখীন। বকেয়া ডিএ-র পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা হওয়ায় তা দ্রুত মেটানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, কেন্দ্রের কাছ থেকে ঋণের অনুমোদন না পাওয়ার বিষয়টিও আদালতকে জানানো হয়েছে। এছাড়া, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন পরিচালনায় বিপুল খরচের একটি আগাম আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন রাজ্য প্রশাসনের কর্তারা।

প্রশাসনিক পরিকাঠামোর জটিলতার কথাও আবেদনে উঠে এসেছে। রাজ্যের দাবি, ২০১৬ সালের আগের বহু কর্মীর তথ্য এখনো ডিজিটালাইজড করা সম্ভব হয়নি। হাজার হাজার পেনশনভোগীর রেকর্ড মেলাতে গিয়ে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। তাছাড়া, ডিএ প্রদানের প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ করতে নতুন একটি পোর্টাল তৈরি করা হলেও তা পুরোপুরি কার্যকর করতে কারিগরি সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে রাজ্য জানিয়েছে।

কর্মচারী সংগঠনের পাল্টা অভিযোগ

রাজ্যের এই আবেদনের বিপরীতে কর্মচারী সংগঠনগুলোর মনোভাব বেশ কঠোর। তাদের দাবি, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার সময়ের মধ্যে মহার্ঘ ভাতা প্রদানে ব্যর্থ হয়েছে, যা আদালত অবমাননার শামিল। সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের এই দাবি ও আইনি লড়াই এখন কোন মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আজ আদালতের শুনানি এবং নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে লাখ লাখ সরকারি কর্মীর বকেয়া ডিএ পাওয়ার ভবিষ্যৎ।

এক ঝলকে

  • মামলার বিষয়: রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ প্রদান ও সময়সীমা বৃদ্ধি।
  • আদালত: সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ।
  • রাজ্যের আবেদন: ৩১ মার্চের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করার আরজি।
  • রাজ্যের যুক্তি: আর্থিক অনটন, কেন্দ্রীয় ঋণের অভাব এবং বিধানসভা নির্বাচনের খরচ।
  • প্রশাসনিক কারণ: ২০১৬ সালের আগের কর্মীদের তথ্য ডিজিটালাইজেশনের সমস্যা ও নতুন পোর্টালের কারিগরি ত্রুটি।
  • পরবর্তী পদক্ষেপ: আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে সরকারি কর্মী ও রাজ্য প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *