সোনাটা লুকিয়ে ফেলো! কেন এমন অদ্ভুত পরামর্শ দিলেন আনন্দ শ্রীনিবাসন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের পতন সত্ত্বেও ভারতে এর দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম যে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে, তার পেছনে ভারতীয় রুপির অবমূল্যায়নকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন প্রখ্যাত আর্থিক বিশ্লেষক আনন্দ শ্রীনিবাসন। তার মতে, বিশ্ববাজারে দর কমলে ভারতেও দাম কমার কথা ছিল, কিন্তু মুদ্রাস্ফীতি ও রুপির দুর্বল অবস্থার কারণে সোনা এখন ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘রাজা’ হয়ে উঠেছে।
ডিজিটাল নয় বরং ভৌত সোনার ওপর গুরুত্ব
শ্রীনিবাসন মনে করেন, মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য ডিজিটাল সোনার চেয়ে ভৌত বা আসল সোনা সংগ্রহ করা অনেক বেশি কার্যকর। তার দাবি, সোনা সংকটের সময়ে মানুষের সেরা বন্ধু হিসেবে কাজ করে। তবে তিনি একটি সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, কোনো দেশের সরকারই সাধারণত সাধারণ মানুষের হাতে বিপুল পরিমাণ সোনা থাকা পছন্দ করে না। বিশেষ করে অর্থনৈতিক মন্দা বা যুদ্ধের সময় সম্পদের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপের ঝুঁকি থাকে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা
বিশ্লেষক শ্রীনিবাসন ১৯৩০-এর দশকে আমেরিকার ‘এক্সিকিউটিভ অর্ডার ৬১০২’-এর উদাহরণ টেনে পাঠকদের সতর্ক করেছেন। সেই সময় চরম অর্থনৈতিক সংকটে সরকার সাধারণ মানুষের সোনা রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। তিনি জানান, ডিজিটাল সোনা বা ব্যাংকে রাখা সম্পদ সরকার চাইলে একটি ক্লিকের মাধ্যমেই বাজেয়াপ্ত করতে পারে, যা ভৌত সোনার ক্ষেত্রে করা কঠিন। তাই সঠিক বিল এবং সার্টিফিকেটসহ সোনা কিনে তা নিরাপদে নিজের কাছে রাখাই দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার চাবিকাঠি।
এক ঝলকে
- আন্তর্জাতিক বাজারে দর কমলেও রুপির অবমূল্যায়নের কারণে ভারতে সোনার দাম কমছে না।
- ভবিষ্যতের চরম অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ভৌত সোনা কেনা ডিজিটাল সোনার চেয়ে নিরাপদ।
- ১৯৩০-এর দশকে আমেরিকায় সোনা বাজেয়াপ্ত করার মতো ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ।
- আইনি জটিলতা এড়াতে সঠিক বিল ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ সোনা সংরক্ষণ করা জরুরি।
