সোনায় সোহাগা নয়, এবার ছ্যাঁকা! একলাফে ১৫ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধি, অগ্নিমূল্য হতে চলেছে সোনা-রুপো – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: ভারতের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষা এবং বাণিজ্য ঘাটতি সামাল দিতে সোনা ও রুপোর আমদানি শুল্কে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সংযম পালনের বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই এই দুই মূল্যবান ধাতুর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে দেশের বাজারে সোনা ও রুপোর দাম একলাফে অনেকটা বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
আমদানি কমানোর লক্ষ্যে কড়া পদক্ষেপ
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনা ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে ভারত প্রায় সম্পূর্ণ চাহিদাই আমদানির মাধ্যমে মেটায়। বিশ্ব গোল্ড কাউন্সিলের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, শেয়ার বাজারের অস্থিরতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে সোনায় বিনিয়োগের ঝোঁক কয়েকগুণ বেড়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত গোল্ড ইটিএফ-এ বিনিয়োগ ১৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড ২০ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ সোনা আমদানির ফলে দেশের কোষাগার থেকে প্রচুর বিদেশি মুদ্রা বাইরে চলে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই সরকার কার্যকরী আমদানি শুল্ক একধাক্কায় দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাজারে প্রভাব ও চোরাচালানের উদ্বেগ
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাজারে সোনা ও রুপোর চাহিদা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, সোনার দাম এমনিতেই আকাশছোঁয়া, তার ওপর শুল্ক বৃদ্ধির বোঝা চাপলে সাধারণ ক্রেতারা বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। তবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এটি সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, শিল্পমহলের বড় অংশ আবার ভিন্ন আশঙ্কার কথা শুনিয়েছে। তাদের মতে, আমদানিতে কড়াকড়ি বাড়লে বাজারে ‘গ্রে মার্কেট’ বা অবৈধ পথে সোনা আসার প্রবণতা বাড়তে পারে। বৈধ পথে আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় চোরাচালানকারীদের দৌরাত্ম্য বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। এখন দেখার, সরকারের এই কড়া নীতি বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ কতটা মজবুত করে এবং উৎসবের মরসুমের আগে গয়না শিল্পে এর কী প্রভাব পড়ে।
