সোনারপুরে হামলার মুখে অভিষেক, ভাঙা চশমা দেখিয়ে নিশানা বিজেপি ও পুলিশকে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যাওয়ার পথে নজিরবিহীন হামলার মুখে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও ডিম ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ। নিজের ভাঙা চশমা ও ঘামে-ভেজা শার্ট দেখিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ দাবি করেছেন, তাঁকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই এই পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে বিজেপি। এই ঘটনায় রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।
পরিকল্পিত হামলা ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ
নিহত সহকর্মীর বাড়িতে বসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, সোনারপুরের স্থানীয় মানুষ তাঁকে দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করেছেন এবং স্বাগত জানিয়েছেন। কিন্তু অশান্তি পাকাতে সকাল থেকেই বাইরে থেকে গুন্ডা এনে জড়ো করেছিল বিজেপি। তাঁর দাবি, তিনি এলাকায় ঢুকলেই হামলার নির্দেশ দেওয়া ছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে সহকর্মীদের তৎপরতায় হেলমেট না থাকলে তাঁর মাথা দু’টুকরো হয়ে যেত। একই সঙ্গে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বহিরাগতদের অনুপ্রবেশের খবর আগে থেকে জানানো সত্ত্বেও আইসি বা পুলিশ প্রশাসনের কেউ কোনো পদক্ষেপ করেননি, এমনকি বিপদের সময় ফোন বা মেসেজেরও উত্তর মেলেনি।
রাজনৈতিক সংঘাত ও আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছেন অভিষেক। বিজেপি সরকারকে নিশানা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্যে ‘জঙ্গলরাজ’ চলছে কি না। হামলায় তাঁর চোখের পুরোনো অস্ত্রোপচারের অংশ জখম হতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং সুবিচারের দাবিতে সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই তৃণমূল নেতা। পাশাপাশি, নিহত কর্মীর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, তাঁদের আর্থিক সাহায্য করা হবে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়িয়ে ময়দানে থেকে এই লড়াই শেষ করার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
