সোনা কেনা ও বিদেশ ভ্রমণে না! ভারতের অর্থনীতি বাঁচাতে ৫টি কড়া পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশবাসীকে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতার প্রভাব কমাতে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু কঠোর কিন্তু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করেছেন। তেলেঙ্গানায় এক জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ‘জাতীয় স্বার্থ’ সবার আগে।
জ্বালানি সাশ্রয় ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের আবেদন
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে জনপরিবহন বা কারপুল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে করোনাকালের মতো পুনরায় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার সংস্কৃতি এবং ভার্চুয়াল মিটিংয়ের ওপর জোর দিতে বলেছেন তিনি। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো যাতায়াত জনিত জ্বালানি খরচ কমানো। এ ছাড়াও, আগামী এক বছর বিদেশ ভ্রমণ, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং এবং অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা থেকে বিরত থাকতে তিনি সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
বিশ্বের প্রায় ৭০টিরও বেশি দেশ বর্তমানে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নানা সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করেছে। থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলো ইতিপূর্বেই কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতি কমিয়ে তেলের চাহিদা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (IEA)-র তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহে মাত্র একদিন বাড়ি থেকে কাজ করলে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ এবং জ্বালানি খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব। ভারতের ক্ষেত্রে আমদানিকৃত তেলের ওপর ভর্তুকি দিতে প্রতিদিন সরকারকে প্রায় ১,৬০০-১,৭০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে, যা জাতীয় কোষাগারে বড় চাপ তৈরি করছে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও সরকারের উদ্বেগ
প্রধানমন্ত্রীর এই আবেদন কেবল প্রতীকী নয়, বরং গভীর অর্থনৈতিক উদ্বেগের প্রতিফলন। স্ট্রেইট অফ হরমুজ—যা বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রধান পথ—সেখানে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় আমদানির খরচ এবং মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ১০ সপ্তাহে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা বাইরে চলে গেছে। এই অবস্থায় সোনা আমদানি কমানো এবং বিদেশ ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। কোনো বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা জারি না হলেও, পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এই বার্তার মাধ্যমে।
