সোমবারই পূর্ণাঙ্গ হচ্ছে শুভেন্দুর মন্ত্রিসভা, অর্থ দপ্তর কি নিজের হাতেই রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী! – এবেলা

সোমবারই পূর্ণাঙ্গ হচ্ছে শুভেন্দুর মন্ত্রিসভা, অর্থ দপ্তর কি নিজের হাতেই রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জল্পনার অবসান ঘটতে চলেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, আগামী সোমবারই শপথ নিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যরা। গত ৯ মে প্রথম দফায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মাত্র পাঁচজন মন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর থেকেই বাকি মন্ত্রিসভার চেহারা কেমন হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছিল। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে একটি গতিশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠনে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে নতুন সরকার।

ভারসাম্য ও দক্ষতার যুগলবন্দি

জানা গিয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞতা ও নতুনত্বের সংমিশ্রণ ঘটাতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব। একদিকে যেমন অভিজ্ঞ ও পুরনো মুখদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে তরুণ ও নতুন মুখদেরও নিয়ে আসা হচ্ছে সামনের সারিতে। সূত্রের দাবি, আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখতে বিভিন্ন জেলার যোগ্য প্রতিনিধিদের এই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। সব মিলিয়ে মোট ৩৩ জন সদস্যকে নিয়ে গঠিত হতে চলেছে এই নতুন মন্ত্রিসভা, যেখানে প্রশাসনিক দক্ষতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।

অর্থ দপ্তরের চাবিকাঠি কার হাতে?

নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে রাজ্যের অর্থ দপ্তর নিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যালকে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থী করে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী করা হতে পারে। তবে সাম্প্রতিকতম সূত্রের খবর অনুযায়ী, সেই সম্ভাবনায় জল ঢেলে শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থ দপ্তর নিজের নিয়ন্ত্রণেই রাখতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু অর্থ নয়, এর পাশাপাশি তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরও মুখ্যমন্ত্রী নিজের অধীনেই রাখতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।

অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আর্থিক পুনর্গঠন এবং নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা। বিজেপির দাবি, পূর্বতন সরকারের আমলে বিপুল ঋণের বোঝা এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঠিক সুবিধা গ্রহণ না করায় রাজ্যের রাজস্ব কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে গতি ফেরানো এবং কেন্দ্রীয় অনুদানের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই শুভেন্দু অধিকারী অর্থ দপ্তর নিজের দায়িত্বে রাখতে চাইছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারেও বিকল্প অর্থনীতি, দ্রুত শিল্পায়ন ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এবং গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে এই মন্ত্রিসভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এখন রাজনৈতিক মহলের সমস্ত নজর সোমবারের রাজভবনের দিকে, যেখানে স্পষ্ট হয়ে যাবে নতুন সরকারের আগামী দিনের পথচলার আসল রূপরেখা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *