সোমবার থেকেই শুনানি শুরু ট্রাইবুনালে, বাদ পড়া ২৭ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ

রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন ও এসআইআর মামলা ঘিরে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। জোকার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন ভবনে তৈরি হয়েছে ট্রাইবুনালের প্রধান কার্যালয়। রবিবার পরিকাঠামো পরিদর্শনের পর অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, সোমবার ১৩ এপ্রিল থেকেই ট্রাইবুনালের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
প্রস্তুত ট্রাইবুনাল এবং জোকার কার্যালয়
জোকার এই প্রতিষ্ঠানে মোট ২১টি ঘর নিয়ে ট্রাইবুনালের দফতর সাজানো হয়েছে। রবিবার মাইক্রো অবজার্ভার এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা এলাকাটি পরিদর্শন করেন। পরিকাঠামোগত প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা। আদালতের নির্দেশে গঠিত এই ট্রাইবুনালে কাজ করবেন ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তাদের সহায়তার জন্য প্রতি বিচারপতির সাথে থাকছেন ৪ থেকে ৫ জন কর্মী। উল্লেখ্য যে, কলকাতা হাইকোর্টের প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুরও এই বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন।
ভোটারদের নাম বাতিলের পর্যালোচনা ও আবেদন পদ্ধতি
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ এই ট্রাইবুনালে তাদের অধিকার দাবি করতে পারবেন। বিচার প্রক্রিয়ার মূল দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো
- ভোটাররা জানতে পারবেন ঠিক কোন নথির অভাবে বা কী কারণে তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
- যদি ভুলবশত কোনো নাম তালিকায় ঢুকে পড়ে, তবে সেটিও পর্যালোচনা করে দেখা হবে।
- আবেদন করার জন্য সশরীরে হাজিরা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
- ইসিআইনেট মোবাইল অ্যাপ অথবা কমিশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে।
- এ ছাড়াও জেলাশাসক বা মহকুমাশাসকের দফতরেও আবেদন জমা দেওয়া সম্ভব।
আইনি প্রেক্ষাপট ও সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা
ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই ‘ফ্রিজ’ হয়ে গিয়েছে। এমন অবস্থায় ট্রাইবুনালের রায়ে যারা পুনরায় বৈধ ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন, তারা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এই বিষয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি রয়েছে। বিচারপতিরা কোন পদ্ধতিতে আবেদন নিষ্পত্তি করবেন, তার রূপরেখা ঠিক করতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করে দিয়েছেন।
ইতিমধ্যেই হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম বাড়ি থেকে কাজ করে কিছু বিবাদমান প্রার্থীর তথ্যের নিষ্পত্তি করেছেন। ৬০ লক্ষের বেশি বিবেচনাধীন ব্যক্তির মধ্যে যারা বাদ পড়েছেন, তাদের জন্য এই ট্রাইবুনাল শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক ঝলকে
- শুনানির তারিখ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬।
- স্থান: জোকা, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন।
- বিচারকের সংখ্যা: ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি।
- ক্ষতিগ্রস্ত ভোটার: তালিকা থেকে বাদ পড়া ২৭ লক্ষ মানুষ।
- আবেদনের মাধ্যম: সশরীরে, মোবাইল অ্যাপ (ECINET) বা কমিশনের ওয়েবসাইট।
