স্কুলে কমবে তেল-গ্যাস! মিড-ডে মিলে ১০% কাটছাঁটের নির্দেশ রাজ্য সরকারের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের স্কুল পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শৈশবকালীন মেদবৃদ্ধি বা স্থূলতার সমস্যা মোকাবিলায় এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল রাজ্যের স্কুল শিক্ষা বিভাগ। গত ১৮ মে ২০২৪ তারিখে প্রকাশিত একটি সরকারি নির্দেশিকায় রাজ্যের সমস্ত স্কুলে ‘পিএম পোষণ’ (মিড ডে মিল) প্রকল্পের খাবার তৈরিতে রান্নার তেল এবং এলपीजी গ্যাসের ব্যবহার এক ধাক্কায় ১০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মুখ্য সচিবের নির্দেশনার পর স্কুল শিক্ষা বিভাগ এই আদেশ জারি করে, যা অবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। কলকাতার প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি, জেলা শাসক, মহকুমা শাসক এবং জিটিএ-এর শিক্ষা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত স্তরে এই নির্দেশনামা পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন রান্নার কৌশল
সরকারি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, বর্তমান সময়ে শিশুদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজন ও মেদবৃদ্ধির প্রবণতা একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পিএম পোষণ যোজনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার একটি দারুণ সুযোগ তৈরি করতে পারে। কম তেল ব্যবহার করে পুষ্টিকর ও টাটকা খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে শিশুদের স্বাস্থ্য উন্নত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। নির্দেশিকায় রান্নার ধরনেও পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। এখন থেকে গভীর তেলে ভাজার (ডিপ-ফ্রাই) পরিবর্তে গ্রিলিং, স্টিমিং বা সেদ্ধ করার মতো স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি অবলম্বন করতে স্কুল ও রাঁধুনিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিমাপে বদল ও সম্ভাব্য প্রভাব
নতুন এই নিয়ম চালুর ফলে মিড ডে মিলের পূর্বনির্ধারিত খাদ্যতালিকায় তেলের পরিমাণে বড় বদল আসছে। আগে যেখানে প্রাথমিকে দৈনিক ৫ গ্রাম এবং উচ্চ প্রাথমিকে ৭.৫ গ্রাম তেল বরাদ্দ ছিল, এখন থেকে সেখানে ১০ শতাংশ কম তেল ব্যবহার করতে হবে। এর ফলে একদিকে যেমন অতিরিক্ত তেল-মসলা বর্জিত খাবার খেয়ে পড়ুয়াদের লিভার ও হার্ট ভালো থাকবে এবং মেদ জমবে না, অন্যদিকে এলपीजी-র সাশ্রয় পরিবেশবান্ধব ও অর্থনৈতিক সাশ্রয় ঘটাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে হঠাৎ করে উপাদানের এই ঘাটতি খাবারের স্বাদ ও পুষ্টির ভারসাম্যে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
- পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষা বিভাগ মিড ডে মিলে তেল ও এলपीजी গ্যাসের ব্যবহার ১০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছে।
- শিশুদের শৈশবকালীন মেদবৃদ্ধি বা স্থূলতার সমস্যা রোধ এবং সুস্থ খাদ্যাভ্যাস তৈরি করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- খাবারের গুণমান বজায় রাখতে ডিপ-ফ্রাই বা কড়া ভাজার বদলে সেদ্ধ বা ভাপানো (স্টিমিং) পদ্ধতিতে রান্নার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
- প্রাথমিকে নির্ধারিত ৫ গ্রাম ও উচ্চ প্রাথমিকে নির্ধারিত ৭.৫ গ্রাম তেলের বরাদ্দ থেকে ১০ শতাংশ করে ছাঁটাই করা হচ্ছে।
