স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের নির্মম বলি ডেলিভারি বয়! ট্রাঙ্ক থেকে উদ্ধার পচাগলা দেহ – এবেলা

স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের নির্মম বলি ডেলিভারি বয়! ট্রাঙ্ক থেকে উদ্ধার পচাগলা দেহ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

গুরুগ্রামের সেক্টর-৫৪ এলাকায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এক যুবককে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিহারের সাহারসা জেলার বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সী আমান, যিনি পেশায় একজন ডেলিভারি এজেন্ট ছিলেন, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য লোহার ট্রাঙ্কে ভরে রাখা হয়েছিল। ঘটনার তিন-চার দিন পর পুলিশ সেই তালাবন্ধ ট্রাঙ্ক থেকে আমানের পচাগলা দেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আমানের স্ত্রী সুনীতার সাথে ১৯ বছর বয়সী সোনু কুমারের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।

প্রতিহিংসা ও খুনের ব্লু-প্রিন্ট

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, আমান তার স্ত্রীর সাথে সোনুর অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি জেনে ফেলেছিলেন এবং এই নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে এবং আমানকে পথের কাঁটা সরাতে সোনু তার বন্ধু মহম্মদ মিরাজকে সাথে নিয়ে খুনের পরিকল্পনা করে। গত ২৫ এপ্রিল ভোরে আমান যখন কাজে বেরোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন অভিযুক্তরা তাকে একা পেয়ে আক্রমণ করে। একজন পা চেপে ধরে এবং অন্যজন গলায় ফাঁস দিয়ে আমানের মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর দেহটি একটি বড় ট্রাঙ্কে লুকিয়ে তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

রহস্যের উন্মোচন ও গ্রেপ্তার

হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পর আমানের স্ত্রী সুনীতা নিজেই তার দেওরকে ফোন করে জানান যে, সোনু তার স্বামীকে খুন করে বাক্সে ভরে রেখেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আমানের দেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত সোনু কুমার ও মহম্মদ মিরাজকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতরা পুলিশের কাছে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে। তবে এই ঘটনায় স্ত্রী সুনীতার ভূমিকা এখনো সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। তিনি আগে থেকে এই ষড়যন্ত্রের কথা জানতেন কি না, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।

এক ঝলকে

  • পরকীয়া সম্পর্কের জেরে গুরুগ্রামে ডেলিভারি এজেন্ট আমানকে নৃশংসভাবে হত্যা।
  • স্ত্রীর প্রেমিক সোনু ও তার সহযোগী মিলে শ্বাসরোধ করে খুনের পর দেহ ট্রাঙ্কে ভরে রাখে।
  • ঘটনার কয়েকদিন পর নিহতের স্ত্রীর ফোনের সূত্র ধরে পুলিশ পচাগলা দেহ উদ্ধার করে।
  • প্রধান অভিযুক্ত সোনু ও মিরাজকে গ্রেপ্তার করা হলেও স্ত্রীর ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *