স্ত্রী ও সন্তানকে খুনের পর নিজেকে মৃত সাজাতে যুবককে জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যা, অপরাধীকে ফাঁসির সাজা – এবেলা

স্ত্রী ও সন্তানকে খুনের পর নিজেকে মৃত সাজাতে যুবককে জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যা, অপরাধীকে ফাঁসির সাজা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ছত্তিশগড়ের ভিলাইয়ে ৬ বছর আগে ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার কেসে অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। বিচারক যশোবন্ত কুমার সারথীর আদালত এই পৈশাচিক ঘটনাকে ‘বিরলতম’ আখ্যা দিয়ে দোষী রবি শর্মাকে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে। নিজের স্ত্রী ও দেড় বছরের সন্তানকে হত্যার পর নিজেকে মৃত প্রমাণ করতে এক নির্দোষ যুবককে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার মতো ভয়াবহ ছক কষেছিল এই ব্যক্তি।

একটি সাজানো খুনের পরিকল্পনা ও নেপথ্যের কারণ

তদন্তে জানা গেছে, রবি শর্মা প্রকৃতপক্ষে আগে থেকেই বিবাহিত ছিল এবং নিজের পরিচয় গোপন করে মঞ্জু শর্মাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিল। সে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ওপর সন্দেহ করত এবং তার থেকে মুক্তি পেতে চাইত। নিজের অপরাধ আড়াল করতে এবং নতুন পরিচয়ে প্রথম পক্ষের স্ত্রীর কাছে ফিরে যেতেই সে এই রোমহর্ষক ষড়যন্ত্র করে। জনৈক এন. রাজু নামের এক যুবককে ভুলিয়ে বাড়িতে এনে মাদক খাইয়ে অজ্ঞান করার পর তাকে পুড়িয়ে মারে রবি, যাতে সবাই রাজুর দেহকে রবির দেহ বলে ভুল করে।

ঘটনার উন্মোচন ও পুলিশের তৎপরতা

২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ভিলাইয়ের পারিজাত কলোনিতে এই নৃশংসতা চালায় রবি। ঘরের ভেতরে স্ত্রী মঞ্জুর হাত-পা ও মুখ টেপ দিয়ে বাঁধা অবস্থায় আধপোড়া দেহ এবং পাশে মৃত সন্তানকে উদ্ধার করে পুলিশ। বিছানার নিচে উদ্ধার হয় অজ্ঞাতপরিচয় ওই যুবকের ঝলসে যাওয়া দেহ। ঘটনার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য ঘরে আগুন ধরিয়ে দিলেও রবির পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার পরদিনই ওড়িশার রাউরকেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আদালত জানিয়েছে, এই ধরনের অপরাধ কেবল নিষ্ঠুরতার চরম সীমাই নয় বরং সমাজের জন্য এক মারাত্মক হুমকি। অপরাধীর এমন ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনা ও পৈশাচিক আচরণের জন্য কোনো প্রকার নমনীয়তা না দেখিয়ে চরম সাজার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

এক ঝলকে

  • স্ত্রী, শিশু সন্তান ও এক যুবককে হত্যার অপরাধে রবি শর্মাকে ফাঁসির সাজা দিল আদালত।
  • নিজেকে মৃত প্রমাণ করে প্রথম স্ত্রীর কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য এই ট্রিপল মার্ডারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
  • ওড়িশার রাউরকেলা রেল স্টেশন থেকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ ঘাতককে গ্রেপ্তার করে।
  • আদালত এই নৃশংস ঘটনাকে ‘রেয়ারেস্ট অফ দ্য রেয়ার’ বা বিরলতম অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *