স্নাতন ধর্ম যেন ‘ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়া’! সুপ্রিম কোর্টের ধমক খেয়েও স্বমহিমায় উদয়নিধি – এবেলা

স্নাতন ধর্ম যেন ‘ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়া’! সুপ্রিম কোর্টের ধমক খেয়েও স্বমহিমায় উদয়নিধি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ‘সনাতন ধর্ম’ সংক্রান্ত বিতর্ক ফের নতুন মাত্রা পেল। ইতিপূর্বে সনাতন ধর্মকে ‘ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও করোনা’র মতো মারণব্যাধির সঙ্গে তুলনা করে দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজগাম (ডিএমকে) নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন। এমনকি দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকেও তাঁকে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পরেও উদয়নিধি তাঁর পুরনো অবস্থানেই অনড় থাকলেন।

মঙ্গলবার তামিলনাড়ু বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিজের প্রথম ভাষণেই তিনি দাবি করেন, সনাতন ধর্ম মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে এবং একে ‘নির্মূল’ করা প্রয়োজন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়ের (থালাপথি বিজয়) উপস্থিতিতেই তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্যটি করেন। এর মাধ্যমে উদয়নিধি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আইনি জটিলতা বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন সত্ত্বেও তিনি নিজের আদর্শ থেকে পিছু হটবেন না।

আদালতের কড়া অবস্থান ও আইনি ইতিহাস

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে উদয়নিধি বলেছিলেন, সনাতন ধর্ম সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাম্যের পরিপন্থী, তাই এর প্রতিবাদ নয় বরং একে সমূলে বিনাশ করা উচিত। এই মন্তব্যকে ঘিরে ভারতজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং একাধিক রাজ্যে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে সুপ্রিম কোর্ট উদয়নিধির এই বক্তব্যকে ‘হেট স্পিচ’ বা ঘৃণামূলক বক্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর সমালোচনা করে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর বাকস্বাধীনতার অপব্যবহার করা অনুচিত। বর্তমানে এই সংক্রান্ত একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকলেও উদয়নিধি ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করেছেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও পাল্টাপাল্টি আক্রমণ

উদয়নিধির এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি। দলটির দাবি, এ ধরনের বিভাজনমূলক এবং ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা বক্তব্যের কারণেই সাম্প্রতিক নির্বাচনে ডিএমকে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে। বিজেপির মুখপাত্র নারায়ণন তিরুপতি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো বন্ধ না করলে তামিলনাড়ুর জনগণ ডিএমকে-কে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা হারানো সত্ত্বেও উদয়নিধির এই অনড় অবস্থান আসন্ন দিনগুলোতে দক্ষিণী রাজনীতিতে ধর্মীয় ও আদর্শগত মেরুকরণকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *