স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য করে বিপাকে অভিষেক, শিলিগুড়িতে দায়ের এফআইআর – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পর আইনি জটিলতা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের। এবার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে উস্কানিমূলক ও বেআইনি মন্তব্য করার অভিযোগে শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন সঞ্জয় কুমার সিংঘল নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।
অভিযোগের পটভূমি ও আইনি অস্বস্তি
গত ৪ মে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর ও প্ররোচনামূলক মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। প্রকাশ্যে একজন সাংসদ কীভাবে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এভাবে নিশানা করতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওই ব্যবসায়ী। তাঁর মতে, এ ধরনের মন্তব্য সাধারণ মানুষের মনে ভীতি তৈরি করে। অবশ্য এই নতুন অভিযোগের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জোড়া ফলায় তৃণমূল নেতৃত্ব ও সম্ভাব্য প্রভাব
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর আইনি চাপ এটিই প্রথম নয়। এর মাত্র কয়েকদিন আগেই শিলিগুড়ির একই থানায় পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দেশের সার্বভৌমত্ব ও শান্তিভঙ্গের উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিলেন এক আইনজীবী। দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা এবং প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকে জড়িয়ে মন্তব্যের জেরে সেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও আগে থেকে বিধায়কদের সই জাল মামলাসহ একাধিক রাজ্য ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মামলার জালে জড়িয়ে রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর একের পর এক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে এই ধরনের মামলা দায়ের হওয়া দলের ভাবমূর্তিকে জনসাধারণের সামনে আরও কিছুটা ধাক্কা দিতে পারে। একই সাথে, আইনি লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকায় সাংগঠনিক কাজেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিলিগুড়ির এই নতুন মামলাটি যে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের রাজনৈতিক ও আইনি অস্বস্তি অনেকটাই বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।
