স্বাধীনতার সাক্ষী শতায়ু পুলিশ অফিসার! শ্যামাপ্রসাদের স্মৃতিচারণে আবেগঘন বোলপুরের ‘লিভিং লেজেন্ড’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বোলপুর: স্বাধীন ভারতের প্রথম ব্যাচের পুলিশ অফিসার, যিনি নিজ চোখে দেখেছেন দেশের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক এবং ভারতের প্রথম শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে। সেই শতায়ু কৃষ্ণ দাসের সঙ্গে দেখা করে এক বিরল অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়।
স্মৃতির পাতায় শ্যামাপ্রসাদ
বোলপুরের সুঁড়িপাড়ার বাসিন্দা ১০৫ বছর বয়সী কৃষ্ণদাসবাবু আজও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। ১৯২১ সালে জন্ম নেওয়া এই প্রবীণ পুলিশ আধিকারিক শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ আলাপচারিতার কথা স্মরণ করে জানান, দেশভাগের যন্ত্রণায় কতটা ব্যথিত ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। কৃষ্ণদাসবাবুর কথায়, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কখনোই বাংলা ভাগ চাননি।” প্রবীণের সেই ঐতিহাসিক বয়ানের সঙ্গে নিজের গবেষণার তথ্যের হুবহু মিল পেয়ে রোমাঞ্চিত অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ইতিহাসের পাতায় থাকা ঘটনার অবিকল বর্ণনা যখন সরাসরি তাঁর মুখ থেকে শুনছিলাম, তখন গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল।”
তীর্থদর্শনের অনুভূতি
কৃষ্ণদাসবাবুর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তরীয়, পুষ্পস্তবক ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবি ও দুর্লভ বই উপহার দেওয়া হয়। অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “শ্যামাপ্রসাদজির সঙ্গে কাজ করেছেন এমন মাত্র তিনজনকে খুঁজে পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার— রেঙ্গুন, শীলচর এবং শেষে বোলপুরে। কৃষ্ণদাসবাবুর সঙ্গে দেখা করা যেন এক তীর্থদর্শন।”
বোলপুরের এই ‘লিভিং লেজেন্ড’কে সম্মান জানাতে পেরে আপ্লুত বিজেপি নেতাও। সব মিলিয়ে, স্বাধীনতার ঠিক পরবর্তী সময়ে ভারতের রূপান্তরের এক জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে বোলপুরের কৃষ্ণ দাস এখন ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায় হয়ে উঠেছেন।
