স্বামী কি কেবলই ভোগের বস্তু? দুই স্ত্রীর মধ্যে স্বামী ভাগাভাগির আজব কাণ্ড! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিহারের পূর্ণিয়া জেলায় পারিবারিক কলহের এক নজিরবিহীন সমাধান দেখল এলাকাবাসী। দুই স্ত্রীর দাবির মুখে কোনো আইনি বিচ্ছেদ নয়, বরং খোদ স্বামীকেই আধাআধি ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভবানিপুর থানার গোডিয়ারি এলাকার এক ব্যক্তি প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে ছয় সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও দ্বিতীয় বিয়ে করেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় স্ত্রী প্রতারণার অভিযোগ তুলে থানায় দ্বারস্থ হলে বিষয়টি পারিবারিক পরামর্শ কেন্দ্রে পৌঁছায়। সেখানে দুই স্ত্রীই তাদের স্বামীর সঙ্গে সংসার করার জেদ ধরলে তৈরি হয় এক জটিল আইনি ও সামাজিক সংকট।
অদ্ভুত মীমাংসা ও সময়ের ভাগাভাগি
পারিবারিক পরামর্শ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা উভয় পক্ষের অনড় অবস্থান দেখে এক অভিনব সমঝোতা প্রস্তাব পেশ করেন, যা দুই স্ত্রীই মেনে নেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত স্বামী এখন থেকে মাসের ৩০ দিনের মধ্যে ১৫ দিন প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে এবং বাকি ১৫ দিন দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে অবস্থান করবেন। এই সমঝোতা যাতে ভবিষ্যতে কেউ লঙ্ঘন করতে না পারেন, সেজন্য তিনজনের কাছ থেকেই আইনত মুচলেকা বা বন্ড লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও দায়বদ্ধতা
এই অদ্ভুত সিদ্ধান্তের ফলে ওই ব্যক্তিকে এখন থেকে দুটি পৃথক সংসার পরিচালনা করতে হবে। সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, উভয় স্ত্রীর ভরণপোষণ, খাদ্য এবং পোশাকের সমস্ত দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে। মূলত আইনি জটিলতা এড়াতে এবং সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এই পথ বেছে নেওয়া হলেও, সামাজিকভাবে এটি মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, পারিবারিক বিবাদ নিরসনে অনেক সময় প্রচলিত আইনের বাইরে গিয়ে মানবিক ও আপসযোগ্য সমাধানের পথ খুঁজতে হয়।
এক ঝলকে
- বিহারের পূর্ণিয়া জেলায় দুই স্ত্রীর মধ্যে স্বামীকে দিন মেপে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
- স্বামীকে মাসে ১৫ দিন প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে এবং ১৫ দিন দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে থাকতে হবে।
- প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে করায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল।
- পারিবারিক পরামর্শ কেন্দ্রের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষ বন্ড সই করে এই সমঝোতা মেনে নিয়েছে।
