স্বামী বা স্ত্রীকে টাকা দিলেই কি আয়কর কমবে? জানুন আসল কৌশল!

স্বামী-স্ত্রীর আর্থিক লেনদেনে আয়কর জটিলতা: করের বোঝা কার ওপর? জানুন আইনি সমাধান
দম্পতিদের মধ্যে দৈনন্দিন জীবনে আর্থিক লেনদেন অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয়। তবে এই লেনদেনের ফলে যদি কোনো অতিরিক্ত আয় তৈরি হয়, তবে সেই আয়ের ওপর করের দায় কার হবে—তা নিয়ে অনেক করদাতার মনেই প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন আয়কর আইনের পরিপ্রেক্ষিতে এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ক্লাবিং অফ ইনকাম: কী এই নিয়ম?
আয়কর আইনের নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে অথবা স্ত্রী তার স্বামীকে কোনো বাণিজ্যিক কারণ বা পর্যাপ্ত বিনিময় মূল্য ছাড়া অর্থ বা সম্পদ উপহার হিসেবে প্রদান করেন, তবে সেটিকে ‘উপহার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
এবার এই উপহার হিসেবে পাওয়া টাকা যদি গ্রহীতা কোথাও বিনিয়োগ করেন এবং সেখান থেকে মুনাফা বা আয় হয়, তবে সেই আয় হস্তান্তরকারীর (দাতার) মোট আয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে। আইনগত ভাষায় একেই বলা হয় ‘ক্লাবিং অফ ইনকাম’। এর ফলে, ওই বাড়তি আয়ের ওপর কর দিতে হবে দাতার নিজস্ব করের হার অনুযায়ী।
কর সাশ্রয়ের আইনি পথ: উপহার নয়, ঋণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লাবিং অফ ইনকামের এই নিয়ম এড়াতে লেনদেনটিকে ‘উপহার’ হিসেবে না দেখিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ‘ঋণ’ বা লোন হিসেবে দেখানো সম্ভব। এতে বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয় গ্রহীতার নিজস্ব আয় হিসেবে বিবেচিত হবে, যা বিশেষ করে তখন সুবিধাজনক যখন পরিবারের অন্য সদস্যের আয় করযোগ্য সীমার নিচে থাকে। তবে এই সুবিধা পেতে নিচের শর্তগুলো পূরণ করা বাধ্যতামূলক:
- বৈধ চুক্তি: লেনদেনটি অবশ্যই একটি বৈধ স্ট্যাম্প পেপারে লিখিত ঋণ চুক্তির মাধ্যমে হতে হবে।
- যুক্তিসঙ্গত সুদ: ঋণের ওপর বাজার দরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি নির্দিষ্ট সুদের হার উল্লেখ থাকতে হবে।
- ব্যাঙ্কিং চ্যানেল: মূলধন প্রদান এবং সুদ পরিশোধের যাবতীয় প্রক্রিয়া ব্যাঙ্কিং চ্যানেলের মাধ্যমে হতে হবে, যাতে স্বচ্ছ প্রমাণ থাকে।
- আয় ঘোষণা: যিনি ঋণ দিচ্ছেন, তাকে তার আয়কর রিটার্নে (ITR) প্রাপ্ত সুদকে আয় হিসেবে দেখাতে হবে।
ঝুঁকি ও সতর্কতার বিষয়সমূহ
আয়কর বিভাগ বর্তমানে নিকটাত্মীয়দের আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে:
১. সুদবিহীন ঋণ: যদি ঋণটি সুদবিহীন হয় বা পরবর্তীতে সুদ মকুব করা হয়, তবে আয়কর বিভাগ সেটিকে উপহার হিসেবে গণ্য করে ‘ক্লাবিং’ আইন প্রয়োগ করতে পারে।
২. বিনিয়োগের ধরণ: স্ত্রীর নামে শেয়ার বাজার বা ফিক্সড ডিপোজিটে বিনিয়োগের প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখা হতে পারে। শেয়ার বাজারে লোকসান হলে সেই ক্ষতিও হস্তান্তরকারীর আয়ের সঙ্গেই সমন্বয় করা হয়।
৩. স্থাবর সম্পত্তি: পর্যাপ্ত বিনিময় মূল্য ছাড়া নিজের কেনা বাড়ি স্ত্রীর নামে লিখে দিলে সেই বাড়ির ভাড়ার টাকাও মূল মালিকের আয় হিসেবেই গণ্য خواهد হয়।
সঠিক নথিপত্র ছাড়া কর বাঁচানোর চেষ্টা করলে জরিমানা এবং আইনি নোটিশ পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।
এক ঝলকে
- বিনিময় মূল্য ছাড়া অর্থ প্রদান করলে তা উপহার হিসেবে গণ্য হয় এবং আয় দাতার সাথে যুক্ত হয়।
- লিখিত ঋণ চুক্তির মাধ্যমে লেনদেন করলে ক্লাবিং নিয়ম এড়ানো সম্ভব।
- ঋণের বিপরীতে বাজার দর অনুযায়ী সুদ প্রদান করা বাধ্যতামূলক।
- স্বামী-স্ত্রী যৌথভাবে হোম লোন নিলে দুজনেই কর ছাড়ের সুবিধা পেতে পারেন।
- সঠিক নথিপত্র না থাকলে আয়কর বিভাগ থেকে জরিমানার ঝুঁকি থাকে।
