স্বামী লাশের সঙ্গে ৪ বছর এক বিছানায় কাটালেন স্ত্রী, সন্তানদের দিলেন ভয়ঙ্কর হুমকি – এবেলা

স্বামী লাশের সঙ্গে ৪ বছর এক বিছানায় কাটালেন স্ত্রী, সন্তানদের দিলেন ভয়ঙ্কর হুমকি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাশিয়ার লেনিনগ্রাদ অঞ্চলে এক শিউরে ওঠা ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে যেখানে এক নারী দীর্ঘ চার বছর ধরে তার মৃত স্বামীর লাশের সঙ্গে একই বিছানায় রাত কাটিয়েছেন। ঘটনাটি কেবল একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু নয় বরং এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে মানসিক ভারসাম্যহীনতা এবং অতিপ্রাকৃত বিশ্বাসের এক জটিল সমীকরণ। ৪৯ বছর বয়সী ভ্লাদিমিরের রহস্যময় মৃত্যুর পর তার স্ত্রী শ্বেতলানা চার বছর ধরে এই সত্যটি দুনিয়ার কাছ থেকে গোপন রাখতে সক্ষম হন।

যেভাবে গোপন ছিল এই লোমহর্ষক ঘটনা

২০২০ সালে দম্পতির মধ্যে এক চরম ঝগড়ার সময় ভ্লাদিমির হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান এবং প্রাণ হারান। এরপর শ্বেতলানা তার স্বামীর দেহটি একটি কম্বলে মুড়িয়ে নিজের বেডরুমে নিয়ে আসেন। প্রতিবেশীদের বা বাইরের কাউকে যেন সন্দেহ না হয় সেজন্য তিনি সাধারণ জীবনযাপনের ভান করতে থাকেন। এমনকি সামাজিক কর্মীরা যখন বিভিন্ন সময়ে তাদের বাড়িতে পরিদর্শনে এসেছেন তখন তারা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে ওই কক্ষেই মমি হয়ে যাওয়া একটি লাশ পড়ে আছে।

সন্তানদের ওপর মানসিক নির্যাতন ও হুমকি

এই দীর্ঘ চার বছর শ্বেতলানার চার সন্তান—যাদের বর্তমান বয়স ১৭, ১১ (যমজ) এবং ৮ বছর—একই বাড়িতে লাশের সঙ্গে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছে। সন্তানদের মুখ বন্ধ রাখতে শ্বেতলানা তাদের প্রতিনিয়ত হুমকি দিতেন। তিনি বলতেন যদি তারা এই বিষয়ে কাউকে কিছু জানায় তবে তাদের অনাথ আশ্রমে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। লোকলজ্জা এবং মায়ের ভয়ে শিশুরা এই চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির কথা কাউকে বলতে পারেনি।

ঘরজুড়ে অতিপ্রাকৃত জিনিসের মেলা

তদন্তকারীরা শ্বেতলানার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু ভীতিজনক বস্তু উদ্ধার করেছেন। ঘরটি ট্যারোট কার্ড, বিভিন্ন তুকতাক করার কবজ, মাথার খুলি এবং প্রাচীন মিশরের মৃত্যু দেবতা ‘আনুবিস’-এর ছবিতে পূর্ণ ছিল। এমনকি মৃতদেহের পায়ের কাছে একটি মিশরীয় ক্রস পাওয়া গিয়েছে। জানা গেছে শ্বেতলানা বিশ্বাস করতেন যে তন্ত্রমন্ত্রের মাধ্যমে তিনি তার স্বামীকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারবেন। এই অন্ধবিশ্বাস থেকেই তিনি লাশের মমি তৈরি করে সেটিকে আগলে রেখেছিলেন।

ঘটনার নেপথ্যে থাকা মনস্তাত্ত্বিক কারণ

প্রতিবেদন অনুসারে শ্বেতলানা তার স্বামীকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং তাকে হারাতে চাইতেন না। তিনি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন যে তিনি চাইতেন তার স্বামী যেন সবসময় তার চোখের সামনে থাকে। প্রিয়জনের মৃত্যু মেনে নিতে না পারা এবং সেই শোক থেকে তৈরি হওয়া মানসিক বিকৃতি তাকে এই ভয়ঙ্কর পথে ঠেলে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে আইনি তদন্ত চলছে এবং সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • ঘটনার স্থান: রাশিয়া।
  • সময়কাল: দীর্ঘ ৪ বছর ধরে স্বামীর লাশের সঙ্গে বসবাস।
  • মৃতের পরিচয়: ৪৯ বছর বয়সী ভ্লাদিমির।
  • অভিযুক্ত: স্ত্রী শ্বেতলানা এবং তার অতিপ্রাকৃত বিশ্বাস।
  • ভয়াবহতা: সন্তানদের অনাথ আশ্রমে পাঠানোর হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ রাখা।
  • উদ্ধার: সামাজিক কর্মীদের পরিদর্শনের সময় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *