হবু বর থেকে হোস্টেলের বন্ধ ঘরে ঝুলন্ত দেহ: সুরাটে পিজি ডাক্তারের মৃত্যুতে নামল র্যাগিংয়ের কালো ছায়া! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সুরাট: সুরাট নিউ সিভিল হাসপাতালের বিজি হোস্টেলের ১০০০৫ নম্বর ঘর থেকে উদ্ধার হলো ৩০ বছর বয়সী এক স্নাতকোত্তর চিকিৎসা ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ। মৃত চিকিৎসকের নাম হর্ষ পান্ডিয়া। তিনি হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
রবিবার সকালে ইমার্জেন্সি ডিউটিতে হর্ষ অনুপস্থিত থাকায় সহকর্মীরা তাঁকে ফোন করেন। কিন্তু মোবাইল বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয়। পরে হোস্টেলের বন্ধ ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকা হলে সিলিং ফ্যান থেকে তাঁর দেহ ঝুলতে দেখা যায়। জানা গেছে, সম্প্রতি পরিবারের সম্মতিতে হর্ষের বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল। তাঁর এই আকস্মিক পদক্ষেপে স্তব্ধ পরিবার ও সহকর্মীরা।
হর্ষের বাবা ড. সুভাষ পান্ডিয়া জানান, পড়াশোনা নিয়ে ছেলের কোনো চাপ না থাকলেও, বিভাগে সিনিয়রদের সাথে কাজ ও অতিরিক্ত চাপ নিয়ে প্রায়ই বচসা হতো। ঘটনার পর রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল পানসেরিয়া ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের নির্দেশ দেন।
মেডিকেল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর ড. জয়েশ সাচদের নেতৃত্বে চলা প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বিভাগের চারজন সিনিয়র আবাসিক ডাক্তার দীর্ঘদিন ধরে হর্ষকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করছিলেন। এর ভিত্তিতে ড. নিরালী ভাসাবে, ড. অনুজ মহেশ্বরী, ড. দীক্ষিত ঘেভারিয়া এবং ড. হীনা ভুতনে—এই চার সিনিয়র ডাক্তারকে আগামী ৬ মাসের জন্য হাসপাতাল ও হোস্টেল থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
পুলিশ বর্তমানে হোস্টেলের অন্যান্য আবাসিক ও চিকিৎসকদের জবানবন্দি নিচ্ছ। অতিরিক্ত কাজের চাপ নাকি র্যাগিং—কোন মানসিক যন্ত্রণায় এই তরুণ চিকিৎসক চরম পথ বেছে নিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
