হরমুজ়ে ইন্টারনেট তারে ইরানের নজর, বিপাকে গুগল ও মেটা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হামলার পাল্টা হিসেবে হরমুজ় প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ করার পর এবার গভীর সমুদ্রের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ছক কষছে ইরান। ইউরোপ, এশিয়া ও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলির মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করা সাবমেরিন কেবলের ওপর শুল্ক বা ভাড়া চাপানোর পরিকল্পনা করেছে তেহরান। বিশ্ব অর্থনীতি এবং প্রযুক্তি দুনিয়াকে বড়সড় চাপের মুখে ফেলতেই ইরানের এই কৌশলগত পদক্ষেপ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ব ইন্টারনেট পরিষেবা ও অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা
হরমুজ় প্রণালীর তলদেশ দিয়ে যাওয়া এই তারগুলি বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কিং পরিষেবার মূল মেরুদণ্ড। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের ইঙ্গিত, গুগল, মেটা, মাইক্রোসফ্ট এবং অ্যামাজ়নের মতো শীর্ষ মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলি যদি এই ভাড়া মেটাতে অস্বীকার করে, তবে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট পরিষেবা বিঘ্নিত করা হতে পারে। এই তারগুলির সামান্যতম ক্ষতি হলেও বিশ্বজুড়ে সামরিক যোগাযোগ, অনলাইন ব্যাঙ্কিং, রিমোট ওয়ার্ক এবং স্ট্রিমিং পরিষেবা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গভীর সমুদ্রের এই তারগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির প্রায় এক হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বিপুল আর্থিক লোকসান হতে পারে।
আইনি জটিলতা ও সংঘাতের আবহ
ইরানের আইনপ্রণেতা ও সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ইন্টারনেটের তারেও এবার ভাড়া চাপানো হবে এবং এই তারগুলির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে শুধুমাত্র ইরানি সংস্থাগুলির হাতে। তবে এই সিদ্ধান্ত রূপায়ণের ক্ষেত্রে বড় আইনি জটিলতা রয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে গুগল বা মেটার মতো সংস্থাগুলি ইরানের সাথে কোনো রকম আর্থিক লেনদেন করতে পারবে না। ফলে এই মার্কিন সংস্থাগুলি ইরানের হুঁশিয়ারিকে কতটা গুরুত্ব দেবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাছাড়া, সমস্ত তার ইরানের জলসীমার মধ্যে দিয়ে যায়নি; অনেক সংস্থাই সতর্কতার সাথে ওমানের জলসীমা ব্যবহার করেছে। তবে ফ্যালকন এবং গাল্ফ ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল (জিবিআই)-এর মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেবল ইরানের জলসীমার মধ্যেই রয়েছে, যা এখন সরাসরি তেহরানের নজরে।
অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইল ও ক্ষমতার প্রদর্শন
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিন সফরের পর যখন ইরানের ওপর চাপ বাড়ছিল, ঠিক তখনই তেহরান এই পাল্টা চাল চালল। সমুদ্রের তলদেশের কেবল বিচ্ছিন্ন করে শত্রুপক্ষকে ঘা দেওয়ার কৌশল অবশ্য নতুন নয়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধেই এর প্রমাণ মিলেছিল। ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান আসলে বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিয়ে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো দেশ তাদের ওপর আক্রমণের সাহস না দেখায়। হরমুজ় প্রণালীর পর ইরান যদি লোহিত সাগরেও একই নীতি নেয়, তবে বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইউরোপ ও আমিরশাহির অর্থনীতিবিদরা।
