হরমুজ প্রণালী নিয়ে বড় চাল ইরানের! ট্রাম্পের টেবিলে এখন তেহরানের বিশেষ প্রস্তাব – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হলেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ কমাতে নতুন কূটনৈতিক চাল দিয়েছে ইরান। সরাসরি আলোচনা বন্ধ থাকলেও পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকার কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। বিশেষ এই প্রস্তাবটি মূলত বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ সচল রাখা এবং সেখানে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংক্রান্ত। দীর্ঘদিনের সংঘাতের আবহে ইরানের এই নমনীয় অবস্থানকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।
হোয়াইট হাউসে জরুরি বৈঠক
ইরানের এই আকস্মিক প্রস্তাব পাওয়ার পর সোমবারই জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তান এই আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করায় বিষয়টি বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে ইরান ঠিক কী শর্তে জলপথটি উন্মুক্ত রাখতে চাইছে বা ট্রাম্প সেই প্রস্তাবে শেষ পর্যন্ত সায় দিয়েছেন কি না, তা নিয়ে এখনও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি।
সমঝোতার পথে ওমান ও ইরান
অন্যদিকে পর্দার আড়ালে কূটনীতি যে গতি পেয়েছে, তার প্রমাণ মিলছে ওমান ও ইরানের সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও। ওমানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এই সমঝোতা কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে অস্থিরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রভাব ও সম্ভাবনা
বিশ্বের জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে ইরান যদি শর্তসাপেক্ষে প্রণালীটি শান্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল হতে পারে। তবে আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা ও ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জটিলতায় এই প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বড় ধরণের সংশয় রয়েই গেছে।
এক ঝলকে
- হরমুজ প্রণালী সচল রাখা নিয়ে পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকাকে প্রস্তাব পাঠাল ইরান।
- প্রস্তাবের গুরুত্ব বিচার করতে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- ওমানের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনায় বেশ কিছু বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী।
- এই আলোচনার ওপর বিশ্ববাজারের তেলের সরবরাহ ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নির্ভর করছে।
