হরমুজ সংকটের আবহে ফ্রান্সে মুখোমুখি হচ্ছেন মোদি ও ট্রাম্প – এবেলা

হরমুজ সংকটের আবহে ফ্রান্সে মুখোমুখি হচ্ছেন মোদি ও ট্রাম্প – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে চলা জি-৭ সম্মেলনের অবসরে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা ‘এপি’ সূত্রে খবর, গত দেড় বছরের মধ্যে এই প্রথমবার মুখোমুখি বসছেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বিশেষ আমন্ত্রণে ভারত এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিয়ে দুই নেতার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।

হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা ও জ্বালানি সংকট

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জলপথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে বর্তমানে মহাসংকট তৈরি হয়েছে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। চলমান যুদ্ধের জেরে বিশ্বব্যাপী চাপ তৈরি করতে ইরান এই পথ রুদ্ধ করে রেখেছে। এর বিপরীতে তেহরানকে ঠেকাতে মার্কিন রণতরীগুলোও হরমুজ ঘিরে ফেলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের সিংহভাগ এই পথ দিয়েই আমদানি করে। ফলে এই অচলাবস্থার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি ভারতের নিজস্ব অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

ভারতীয় জাহাজে হামলা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন

এই সংকটের আঁচ সরাসরি এসে পড়েছে ভারতের ওপর। সম্প্রতি ওমান উপকূলে ভারতীয় নাবিক সংবলিত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে একটি হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। এই সবকটি হামলার দায় আমেরিকা স্বীকার করে নেওয়ায় নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।

বৈঠকের সম্ভাব্য প্রভাব

দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে এই আকস্মিক সংঘাতের আবহ তৈরি হওয়ায় মোদি-ট্রাম্পের আসন্ন বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠকের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীর বাণিজ্যিক পথ সচল করার ব্যাপারে কোনো কূটনৈতিক রফাসূত্র মিলতে পারে। একই সাথে, ভারতীয় জাহাজে মার্কিন হামলার ঘটনাটি নিয়ে তৈরি হওয়া ভুল বোঝাবুঝি দূর করে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ককে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টাও করবেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। সমগ্র বিশ্ব এখন এই শীর্ষ বৈঠকের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *