হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে জমি দখলের বিস্ফোরক অভিযোগ ও কাঠগড়ায় মমতার ভাই অজিত! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতার হাই-প্রোফাইল এলাকা হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট আবার তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী জমি জোরপূর্বক দখল করে বহুতল ভবন ও গ্যারেজ নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ৮০ এ হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ‘সোনার তরী’ নামক চারতলা বাড়িটি এবং তার সামনের একটি গ্যারেজের জমি নিয়ে এই বিবাদ প্রকাশ্যে এসেছে। প্রতিবেশী হাজরা পরিবারের দাবি, তাঁদের চার পুরুষের পৈতৃক সম্পত্তি ক্ষমতার অপব্যবহার করে দখল করা হয়েছে।
অভিযোগ ও দীর্ঘদিনের ক্ষোভের নেপথ্যে অভিযোগকারী রঞ্জনা হাজরা ও তাঁর ভাইয়ের দাবি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের রাস্তার দুপাশে তাঁদের চার পুরুষের বেশ কিছু ঠিকা ও কেনা জমি রয়েছে, যেখানে তাঁদের নির্মাণ সামগ্রীর পারিবারিক ব্যবসা ছিল। তাঁদের অভিযোগ, ১৯৯৯ সালে পৈতৃক জমি দখল করার সময় তাঁদের ওপর চরম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে জোরপূর্বক থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক প্রভাব ও এলাকায় সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার না থাকায় এতদিন তাঁরা মুখ খুলতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। সম্প্রতি রাজ্যে প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর তাঁরা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে গিয়ে এই বিষয়ে সরাসরি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।
পাল্টা দাবি এবং সম্ভাব্য প্রভাব অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পাল্টা দাবি, এই বাড়ির জমি সম্পূর্ণ বৈধভাবে কেনা এবং এর প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি দলিলপত্র তাঁর কাছে রয়েছে। উল্টে অভিযোগকারী রঞ্জনা হাজরা নিজের কাকার জমি দখল করে রেখেছেন এবং সেই মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এই ঘটনার ফলে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল কালীঘাট এলাকায় জমি সংক্রান্ত আইনি লড়াই আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই অভিযোগের প্রশাসনিক তদন্ত স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
