হাইকোর্টের নির্দেশের পর বড় সিদ্ধান্ত, হকার উচ্ছেদে আর চলবে না বুলডোজার! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন রেল স্টেশনে বেআইনি দখলদারি হটাতে রেলের তরফে যে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছিল, আপাতত তাতে রাশ টানা হলো। স্টেশন চত্বরে বুলডোজার চালিয়ে হকারদের দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্ট কড়া নির্দেশ দেওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। আদালতের নির্দেশের পাশাপাশি রাজ্যের পরিবর্তিত অবস্থানের ফলে এই উচ্ছেদ অভিযানে নতুন মোড় এসেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস ও রাজ্যের পদক্ষেপ
বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরুর দিনেই হকার উচ্ছেদ এবং বুলডোজার নীতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্রদের সঙ্গে আলোচনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার আর বুলডোজার চালাবে না। এই বিষয়ে সরাসরি রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি বিকল্প সমাধানসূত্র খোঁজা হবে। বৈঠক শেষে কুণাল ঘোষ জানান, হকারদের পুনর্বাসন ও উচ্ছেদ ইস্যুতে রাজ্য রেলের সঙ্গে কথা বলবে। পাশাপাশি, এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীরবতা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
আদালতের হস্তক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
হকার উচ্ছেদ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত কোনোভাবেই জোরপূর্বক হকারদের উচ্ছেদ করা যাবে না। উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরুর আগে রেল কর্তৃপক্ষকে বালিগঞ্জ, ডানকুনি, বনগাঁ, যাদবপুর-সহ ২৫টি বিতর্কিত স্টেশনে সশরীরে পরিদর্শন করে আদালতে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য এবং ফিরদৌস শামিমের সওয়ালের ভিত্তিতে দেওয়া আদালতের এই নির্দেশের ফলে হকাররা যেমন সাময়িক স্বস্তি পেলেন, তেমনই রাজ্য ও রেলের মধ্যে আলোচনার একটি নতুন পথ তৈরি হলো। রেলের একতরফা উচ্ছেদ নীতির কারণে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটিয়ে এবার বিকল্প জায়গার সন্ধান ও পুনর্বাসনের দিকেই হাঁটতে চাইছে প্রশাসন।
