হাইকোর্টে চরম অস্বস্তিতে স্পিকার! ‘বিরোধী দলনেতা’ নির্বাচন নিয়ে নজিরবিহীন প্রশ্ন আদালতের, কাল ফের শুনানি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার চরম আইনি জটিলতার মুখে পড়লেন স্পিকার। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ‘বিরোধী দলনেতা’ পদের লড়াই এবার গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে। আর মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতে স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে একের পর এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন তুলে রীতিমতো ভর্ৎসনা করল আদালত। ক্ষুব্ধ বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনে গোটা বিষয়টি ‘পুলিশ তদন্ত করে দেখুক’।
আসল বিবাদটি কী?
বিধানসভায় শাসক দল তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন ধরেছে। বিক্ষুব্ধ বিধায়করা জোট বেঁধেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে। মূল সংঘাত তৈরি হয় বিরোধী দলনেতার পদটি নিয়ে। তৃণমূলের মূল শিবিরের তরফে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হলেও, স্পিকার বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় অন্য পক্ষ।
আদালতে সওয়াল-জবাব ও বিচারপতির কড়া প্রশ্ন:
এদিন শুনানিতে স্পিকারের আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য দাবি করেন, স্পিকার কোনও রাবার স্ট্যাম্প নন। তিনি জানান, গত ১৯ মে একটি প্রস্তাবে বিধায়কদের সইসহ অন্য একজনের নাম জমা পড়েছিল। কিন্তু সেই স্বাক্ষরগুলি সব ব্লক লেটারে (Block Letters) লেখা। বিধানসভার কাছে বিধায়কদের যে মূল সই রয়েছে, তার সঙ্গে এগুলি মিলিয়ে দেখা এখনও বাকি আছে।
এই সওয়ালের পরই একের পর এক কড়া প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন বিচারপতি। তিনি প্রশ্ন করেন, “সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া বিরোধী দলই কি নাম প্রস্তাব করে? তাদের প্রস্তাব করা নাম উপেক্ষা করে স্পিকার কি নিজের মতো অন্য কাউকে নিয়োগ করতে পারেন?”
‘চেম্বারে বসে কীভাবে সিদ্ধান্ত?’ প্রশ্ন হাইকোর্টের:
স্পিকারের আইনজীবী দাবি করেন, যাঁরা পরে নাম প্রস্তাব করেছিলেন তাঁদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। কিন্তু আদালত এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি। বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “যদি একই দল থেকে দুটি নাম আসে, তবে স্পিকার কীভাবে দুই পক্ষকে সুযোগ না দিয়ে নিজের চেম্বারে বসে সিদ্ধান্ত নিলেন? যেখানে বিধায়কদের অনেকেই দু’জায়গাতেই সই করেছেন, সেখানে স্পিকার বিধানসভা অধিবেশন না ডেকে কীভাবে বুঝলেন কে ঠিক আর কে ভুল?”
আদালত স্পষ্ট জানায়, সইয়ের এই গরমিল নিয়ে পুলিশই তদন্ত করে দেখুক যে ত্রুটি কোথায় ছিল। হাইকোর্টের এই কড়া অবস্থানের পর স্বাভাবিকভাবেই তীব্র অস্বস্তিতে বিধানসভার স্পিকার তথা শাসক শিবির। তবে এই হাইভোল্টেজ আইনি লড়াই এখানেই থামছে না, আগামীকাল অর্থাৎ বুধবার ফের এই মামলার শুনানি হবে।
