হাওড়ায় এসটিএফ-এর বড় সাফল্য: পাক জঙ্গি যোগে গ্রেপ্তার আরও এক, নেপথ্যে মন্ত্রিপুত্রকে হানিট্র্যাপের ছক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর জালে ধরা পড়ল আন্তর্জাতিক জঙ্গি যোগে অভিযুক্ত আরও এক যুবক। হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে আদিত্য সিং ওরফে রাজ নামের ওই যুবককে।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গ্রেফতার হওয়া হামিম মণ্ডল এবং তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে জেরা করেই আদিত্যের নাম সামনে আসে। রবিবার রাতে এসটিএফ তাঁকে আটক করে এবং টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর সোমবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। সোমবারই তাঁকে বর্ধমান আদালতে পেশ করার কথা। অভিযোগ, জঙ্গি কার্যকলাপে হামিমকে সাহায্য করার পাশাপাশি মন্ত্রী উমেশ রাই ও তাঁর ছেলের সম্পর্কিত নানা গোপনীয় তথ্য পাচার করছিলেন আদিত্য।
পাক যোগ ও হানিট্র্যাপের ছক: গোয়েন্দাদের দাবি, পাকিস্তানে বসে থাকা জঙ্গি প্রধান শেহজাদ ভাট্টি এবং ‘তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্থান’-এর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছিল হামিম ও তার দলবল। রাজ্যে অন্তত ৬ জন মন্ত্রী ও তাঁদের পরিবারকে হানিট্র্যাপে ফাঁসানোর বড় পরিকল্পনা ছিল তাদের। এ জন্য নেটমাধ্যমে সুন্দরী যুবতী ও উঠতি মডেলদের টার্গেট করে একটি ‘মহিলা গ্যাং’ বা লেডি মডিউল তৈরির চেষ্টা চলছিল।
ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা অর্পিতা সরকারকেও অভিনয় ও মডেলিংয়ের লোভ দেখিয়ে এবং মোটা টাকার টোপ দিয়ে এই চক্রে টানা হয়েছিল। অর্পিতাকে পাকিস্তান থেকে সামাজিক মাধ্যমে বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়—কীভাবে হাওড়ার এক মন্ত্রীর ছেলেকে হানিট্র্যাপে ফেলে তোলাবাজি ও পরে অপহরণ করা যায়। গত চার মাস ধরে মন্ত্রীর ছেলের সঙ্গে অর্পিতা যোগাযোগ রেখে চলছিল বলে গোয়েন্দা সূত্রের খবর।
এই চক্রের শিকড় কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে এবং আর কোন কোন মহিলাকে এই কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন এসটিএফের গোয়েন্দারা।
