হাতে হাতকড়া, পরনে কয়েদির পোশাক! হায়দ্রাবাদ জেলের আজব অফার: ৫০০ টাকায় মিলবে কারাবাসের অভিজ্ঞতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
হায়দরাবাদের চঞ্চলগুড়া কেন্দ্রীয় কারাগারে শুরু হয়েছে এক ব্যতিক্রমী সচেতনতামূলক কর্মসূচি। মূলত সাধারণ মানুষকে কারাজীবনের কঠোর বাস্তবতা ও প্রতিকূলতা সম্পর্কে ধারণা দিতে এবং অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে আনতে ‘ফিল দ্য জেল’ (জেইল অনুভব করুন) প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১২ মে, ২০০৬) তেলেঙ্গানার রাজ্যপাল শিব প্রতাপ শুক্লা এই প্রকল্পের পাশাপাশি একটি অত্যাধুনিক জেল মিউজিয়াম বা সংগ্রহশালারও উদ্বোধন করেন।
কারাজীবনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও নিয়মাবলী
এই কর্মসূচির আওতায় সাধারণ নাগরিকরা নির্দিষ্ট ফি প্রদানের মাধ্যমে ১২ বা ২৪ ঘণ্টার জন্য কয়েদি হিসেবে সময় অতিবাহিত করতে পারবেন। এই অভিজ্ঞতার জন্য অগ্রিম ৫০০ টাকা নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কারাগারে থাকাকালীন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সাধারণ বন্দিদের মতোই জীবনযাপন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে কয়েদিদের নির্ধারিত পোশাক পরিধান, জেলের খাবার গ্রহণ এবং কারাগারের কঠোর শৃঙ্খলা মেনে চলা। নিয়ম অনুযায়ী, কারাগারে থাকাকালীন কোনো ফোন বা ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা যাবে না। কেউ যদি নির্দিষ্ট সময়ের আগে জেল থেকে বেরিয়ে আসতে চান, তবে তাকে ১০০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
ঐতিহাসিক সংগ্রহশালা ও সংস্কারের বার্তা
চঞ্চলগুড়া জেলের এই আধুনিক সংগ্রহশালায় ব্রিটিশ আমল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কারাগারের বিবর্তন তুলে ধরা হয়েছে। আগে এটি সাঙ্গারেড্ডিতে থাকলেও জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে তা স্থানান্তর করা হয়। এখানে প্রদর্শন করা হয়েছে পুরনো আমলের হাতকড়া, শেকল, ফাঁসির দড়ি এবং বিরল নথিপত্র। রাজ্যপাল জানান, একসময়ের শাস্তি প্রদানের কেন্দ্রগুলো আজ কীভাবে সংশোধনাগারে রূপান্তরিত হয়েছে, এই মিউজিয়াম তারই প্রমাণ। এছাড়া ১৯৬১-৬৮ সালে নাগার্জুনসাগর বাঁধ নির্মাণে বন্দিদের অবদানের কথা বিশেষ গুরুত্বের সাথে এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
উদ্যোগের নেপথ্য কারণ ও প্রভাব
কারা কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য নিছক বিনোদন নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের মনে আইন ও শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধা তৈরি করা। কারাগারের ভেতরের কঠিন জীবন স্বচক্ষে দেখার ফলে মানুষ অপরাধের পথ থেকে দূরে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই অভিনব উদ্যোগ দেশের জেল ব্যবস্থায় সংস্কার ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। আগ্রহীরা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অগ্রিম বুকিং করে এই ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতার অংশ হতে পারবেন।
