হিন্দুদের ত্যাগের দিন শেষ আর কাউকে ভয় পেতে হবে না! এসআইআর তালিকা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি হিমন্তের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনৈতিক মহলে বড়সড় বিতর্ক উসকে দিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। শনিবার একটি জনসভায় রাজ্যের সমাজতাত্ত্বিক পরিচয় পঞ্জি বা এসআইআর (SIR) তালিকা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। হিমন্তের দাবি, বর্তমান সরকারের অধীনে তৈরি হওয়া এই তালিকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বহু মানুষ বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তাঁর এই ‘স্যাক্রিফাইস’ বা ত্যাগ করার তত্ত্ব ঘিরেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
হিন্দু ভাবাবেগে শান ও নতুন তালিকার প্রতিশ্রুতি
নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে বিশেষ বার্তা দিয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা স্পষ্ট জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বর্তমান এসআইআর তালিকা সম্পূর্ণ নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। তাঁর অভিযোগ, ভোটব্যাঙ্ক রক্ষার স্বার্থে রাজ্য সরকার বিশেষ একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে এবং কৌশলে হিন্দুদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, অনুপ্রবেশকারীদের বাংলায় কোনো জায়গা হবে না এবং প্রত্যেক বৈধ হিন্দু নাগরিক যাতে তাঁদের নায্য অধিকার ফিরে পান, তা নিশ্চিত করা হবে।
মেরুকরণ ও রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা
হিমন্তের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যকে ‘বাইরে থেকে এসে ধর্মীয় উস্কানি’ দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে নাগরিকত্ব বা পরিচয় পঞ্জির মতো সংবেদনশীল ইস্যু তুলে বিজেপি মূলত ধর্মীয় মেরুকরণকে হাতিয়ার করতে চাইছে। এর ফলে একদিকে যেমন ভোটারদের মধ্যে এক প্রকার আশঙ্কার সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে হিন্দু জনমতকে একত্রিত করার কৌশলও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এক ঝলকে
- ২০২৬ নির্বাচনের আগে এসআইআর তালিকা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
- বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই পরিচয় পঞ্জি পুনরায় পর্যালোচনা করে হিন্দু নাগরিকদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
- রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিশেষ একটি সম্প্রদায়কে তোষণ এবং হিন্দুদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
- তৃণমূল কংগ্রেস এই বক্তব্যকে সাম্প্রদায়িক উস্কানি বলে প্রত্যাঘাত করেছে, যা বাংলার রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
