হিমন্তের মন্তব্যে উত্তপ্ত সীমান্ত, ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক সম্পর্কে বড়সড় অস্বস্তি

বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ‘রাতের অন্ধকারে’ সীমান্ত পার করে দেওয়ার বিষয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর এই দাবিকে কেন্দ্র করে ভারতের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ কড়া অবস্থান নিয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করে এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও মুখ্যমন্ত্রীর দাবি
একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী শর্মা জানান, সরকারি প্রথা মেনে অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো সময়সাপেক্ষ এবং জটিল। এর বদলে যেসব জায়গায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারি কিছুটা শিথিল, সেই এলাকাগুলো দিয়ে রাতের আঁধারে তাঁদের বাংলাদেশে ‘পুশ-ব্যাক’ বা ধাক্কা দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর মতে, গত এক বছরে সরকারিভাবে ১,৪০০ জনকে ফেরত পাঠানো হলেও অলিখিতভাবে এই সংখ্যা কয়েক হাজার।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব
দীর্ঘদিন শীতল সম্পর্কের পর যখন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই এই বিড়ম্বনা দেখা দিল। ঢাকা এই মন্তব্যকে ‘অবমাননাকর’ বলে অভিহিত করেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ ইস্যুটিকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এমন কিছু তথ্য প্রকাশ করেছেন, যা দিল্লির বিদেশ মন্ত্রককে বিদেশের মাটিতে চরম কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
এক ঝলকে
- অনুপ্রবেশকারীদের রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পার করে দেওয়ার দাবিতে বিতর্ক।
- ভারতের হাইকমিশনারকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানাল ঢাকা।
- সরকারি প্রক্রিয়ার জটিলতা এড়াতে সরাসরি ‘পুশ-ব্যাক’ করার কথা স্বীকার মুখ্যমন্ত্রীর।
- দুই দেশের উন্নতিশীল কূটনৈতিক সম্পর্কের পথে এই ঘটনা বড় বাধা হতে পারে।
