‘হীরা ভারতকে ফিরিয়ে দিন’, রাজা চার্লসকে সরাসরি আর্জি নিউ ইয়র্কের মেয়রের!

‘হীরা ভারতকে ফিরিয়ে দিন’, রাজা চার্লসকে সরাসরি আর্জি নিউ ইয়র্কের মেয়রের!

ভারতের অমূল্য সম্পদ কোহিনূর হীরা ব্রিটিশ রাজপরিবার থেকে স্বদেশে ফিরিয়ে আনার দীর্ঘদিনের দাবি এবার নতুন করে জোরালো হলো। সম্প্রতি নিউ ইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি এই ঐতিহাসিক রত্নটি ভারতকে ফেরত দেওয়ার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই জনপ্রতিনিধি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ পেলে তিনি হীরাটি হস্তান্তরের বিষয়ে রাজাকে উৎসাহিত করবেন। ৯/১১ স্মারক অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি তার এই সদিচ্ছার কথা প্রকাশ করেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ব্রিটিশ অধিকার

কোহিনূর একসময় ভারতীয় শাসকদের শৌর্য ও আভিজাত্যের প্রতীক ছিল। ১৮৪৯ সালে পাঞ্জাব দখলের পর লাহোর চুক্তির মাধ্যমে তৎকালীন শিখ শাসকরা হীরাটি ব্রিটিশদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। এরপর থেকে এটি ব্রিটিশ রাজমুকুটের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে এবং বর্তমানে টাওয়ার অফ লন্ডনে সংরক্ষিত রয়েছে। ভারত সরকার এবং বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘ সময় ধরে দাবি করে আসছে যে, ঔপনিবেশিক শাসনের সময় এই রত্নটি অন্যায়ভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক মহলে প্রভাব ও গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী শহর নিউ ইয়র্কের মেয়রের এই মন্তব্য কোহিনূর ইস্যুতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একজন উচ্চপদস্থ বিদেশি জনপ্রতিনিধির এমন সরাসরি অবস্থান ব্রিটেনের ওপর কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করতে পারে। ভারতের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক অধিকার পুনরুদ্ধারের এই দাবি এখন কেবল দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মাধ্যমে তা আন্তর্জাতিক মঞ্চে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি কোহিনূর হীরা ভারতকে ফেরত দেওয়ার জন্য রাজা চার্লসের কাছে আর্জি জানিয়েছেন।
  • ১৮৪৯ সালে লাহোর চুক্তির মাধ্যমে হীরাটি শিখ শাসকদের কাছ থেকে ব্রিটিশদের হস্তগত হয়েছিল।
  • ভারত সরকার দীর্ঘদিন ধরে ঔপনিবেশিক আমলের এই রত্নটি ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
  • এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে কোহিনূর হস্তান্তরের দাবিকে পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *