“১০টা খুন হলে হবে, ভোটের দিনই ফয়সালা!” রেজিনগরে চরম সিদ্ধান্তে শোরগোল ফেললেন হুমায়ুন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 20, 20266:55 pm
উপনির্বাচনের প্রাক্কালে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে চরম রাজনৈতিক নাটক। পুলিশের বিরুদ্ধে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ওপর ‘অত্যাচার’ এবং একের পর এক ধরপাকড়ের অভিযোগ তুলে আচমকাই রবিবারের সমস্ত নির্বাচনী প্রচার স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করলেন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র কর্ণধার তথা প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। প্রচার ময়দান থেকে সাময়িক সরে দাঁড়ালেও, ভোটের দিন সরাসরি মুখোমুখি লড়াইয়ের বেনজির হুঁশিয়ারি দিয়ে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন তিনি।
কেন হঠাৎ বন্ধ হলো প্রচার? শনিবারই নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেওয়া হয়েছিল। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রতীক পাওয়ার পর রবিবার থেকে প্রতিটি দলেরই জোরকদমে ময়দানে নামার কথা। কিন্তু রেজিনগরে দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। হুমায়ুন কবীরের স্পষ্ট অভিযোগ—
- শুক্রবার নন্দীগ্রামে এক প্রার্থী গ্রেফতারের পর, শনিবার বহরমপুর থানার পুলিশ তাঁদের দলের ব্লক সভাপতি তথা নির্দল প্রার্থী সইফুল ইসলামকে পুরনো একটি মামলায় গ্রেফতার করে।
- বাছাবাছা কর্মী-সমর্থকদের পুলিশ যেভাবে তুলে নিয়ে যাচ্ছে, তাতে পুরো দল এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
- দলীয় প্রার্থীরা আতঙ্কে কাঁপছেন দাবি করে হুমায়ুন প্রশ্ন তোলেন— এই পরিস্থিতিতে কাদের নিয়ে তিনি প্রচারে নামবেন? আর সেই কারণেই রবিবারের প্রচার বয়কটের সিদ্ধান্ত।
“ভোটের দিনই হবে ফয়সালা!”— বিস্ফোরক হুমায়ুন প্রশাসন ও পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন এই প্রাক্তন বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ বিরোধীদের মুখ বন্ধ রাখতে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন—
“আমরা আর এখন প্রচার করব না। পুলিশ যা লুট করার করুক, সেই লুটের উপযুক্ত উত্তর আমরা ভোটের দিনই দেব। তাতে দশটা খুন হলে আমার হবে, ওদের হলে হবে! আমাদের পদে পদে বিরক্ত করা হচ্ছে, প্রচার করতে দেওয়া হচ্ছে না। যা হওয়ার ভোটের দিন ময়দানেই ফয়সালা হবে।”
উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ, তৈরি অশান্তির আশঙ্কা উপনির্বাচনের ঠিক মুখে রেজিনগরে প্রশাসনিক তৎপরতা এবং রাজনৈতিক বাকযুদ্ধে পরিবেশ এমনিতেই বেশ গরম। তার ওপর শাসকদল ও পুলিশের বিরুদ্ধে তোপ দেগে হুমায়ুন কবীর যেভাবে প্রচার বন্ধ করে সরাসরি ভোটের দিন মুখোমুখি হওয়ার হুঙ্কার দিলেন, তাতে নির্বাচনের দিন বুথগুলিতে বড়সড় অশান্তির আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠছে।
