১১ পাতার ফর্ম, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে লাগবে কোন কোন নথি! – এবেলা

১১ পাতার ফর্ম, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে লাগবে কোন কোন নথি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলা শুরু করল অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন প্রক্রিয়া। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে এই প্রকল্পের ফর্ম প্রকাশের কথা ঘোষণার পরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তুমুল আলোড়ন তৈরি হয়েছে। তবে এই যোজনার সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের মোট ১১ পাতার একটি দীর্ঘ ফর্ম পূরণ করতে হবে। পারিবারিক পরিচয় থেকে শুরু করে সম্পত্তি ও আয়া-ব্যয়ের হিসাবের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে হবে এই ফর্মে। যথাযথ তথ্য যাচাইয়ের পর যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে সরকারি আর্থিক সহায়তা পাবেন।

তথ্যের কড়া নজরদারি ও নথির তালিকা

নতুন এই প্রকল্পে আবেদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত নিপুণভাবে সাজিয়েছে রাজ্য সরকার। ফর্মে আবেদনকারীর পরিবারের প্রধানের নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, আধার নম্বর এবং আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পরিবারের বাকি সদস্যদের বিস্তারিত তথ্য এবং গৃহকর্তা বা গৃহকর্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের উল্লেখ করতে হবে। ভোটার কার্ডের নম্বর, বিধানসভা ও পার্ট নম্বর এবং রেশন কার্ডের তথ্য দেওয়া আবশ্যক।

সম্পত্তির খতিয়ান হিসেবে পাকা বাড়ি ও জমির মালিকানার বিবরণ, মিউটেশন ও রেজিস্ট্রেশনের নথি ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। পরিবারের সদস্যদের পেশা, কোনো সরকারি স্বাস্থ্যবিমা বা অন্য প্রকল্পের সুবিধা পান কি না, তাও জানাতে হবে। এমনকি পরিবারের শিশুদের নাম, তাদের স্কুলের ধরন ও ক্লাসের তথ্যও চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিএএ-তে নাগরিকত্বের আবেদন বা স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা নেওয়ার মতো বিষয়গুলিও ফর্মে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আর্থিক সুরক্ষা ও সরকারি লক্ষ্য

সরকারের মূল লক্ষ্য হলো আর্থিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলিকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আয়কর দাতা, সরকারি চাকরিজীবী, নিয়মিত বেতনভোগী কিংবা পেনশনভোগীরা এই যোজনার সুবিধা পাবেন না। পুরোনো ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা অন্নপূর্ণা যোজনার অন্তর্ভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আগের সুবিধাই পাবেন, তবে নতুন প্রকল্পে নাম উঠলে আগের সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে।

আগামী ১ জুন থেকে পূর্ণ মাত্রায় এই কর্মসূচি চালু হতে যাচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য ৯০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে, তাই ফর্ম পূরণ নিয়ে সাধারণ মানুষকে তাড়াহুড়ো না করার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতি সপ্তাহে এই যোজনায় কতজন নাম নথিভুক্ত করছেন, তা নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠক করে জানাবেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মূলত জালিয়াতি রুখতে এবং প্রকৃত দুঃস্থদের হাতে অর্থ পৌঁছে দিতেই সরকার তথ্যের ক্ষেত্রে এত কড়া অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *