১১ মাস পর ঘরে ফিরল বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী, কমবে কি সীমান্ত যুদ্ধ? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘ ১১ মাস উত্তাল সমুদ্রে কাটানোর পর অবশেষে দেশে ফিরেছে আমেরিকার অত্যাধুনিক ও বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’। শনিবার ভার্জিনিয়ার ‘নাভাল স্টেশন নরফোক’-এ নোঙর করেছে বিশালাকার এই জাহাজটি। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো আমেরিকান রণতরী এত দীর্ঘ সময় সমুদ্রে মোতায়েন থাকার রেকর্ড গড়ল। ফোর্ডের ফেরার খবরে স্বস্তিতে রয়েছেন পাঁচ হাজার নাবিকের পরিবার। ‘নাভাল স্টেশন নরফোক’-এ উপস্থিত থেকে নাবিকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান আমেরিকার প্রতিরক্ষা সচিব পিটার হেগসেথ।
অভিযানের সাফল্য ও প্রতিকূলতা
২০২৫ সালের ২৪ জুন যাত্রা শুরু করার পর থেকে ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে অংশ নিয়েছে। ভূমধ্যসাগর থেকে শুরু করে ভেনেজ়ুয়েলা উপকূলের ক্যারিবিয়ান অঞ্চল— সর্বত্রই ছিল এর দাপট। বিশেষ করে ‘অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার’ এবং ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজ়লভ’-এ এই রণতরীর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। পেন্টাগনের দাবি, ফোর্ডের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে পাকড়াও করা কার্যত আসাম্ভব ছিল। এছাড়া ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়লে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তেও অংশ নেয় এই যুদ্ধজাহাজ।
তবে সাফল্যের পাশাপাশি বেশ কিছু যান্ত্রিক ও অভ্যন্তরীণ সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে ফোর্ডকে। গত ১২ মার্চ জাহাজটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যাতে দু’জন আহত হন এবং রণতরীর ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া জাহাজের জটিল ভ্যাকুয়াম সিস্টেম ও বর্জ্যনিষ্কাশন নালা বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল নাবিকদের। তবে ফোর্ডের সঙ্গে এ দিন নিরাপদেই দেশে ফিরেছে ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস বেনব্রিজ এবং ইউএসএস মাহান।
ভূরাজনীতিতে প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
ফোর্ড আমেরিকায় ফিরে আসায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে যে, তবে কি ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা কমছে? যদিও বিশ্লেষকরা এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে নারাজ। কারণ, ফোর্ড ফিরলেও পশ্চিম এশিয়ায় এখনও মোতায়েন রয়েছে ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’ এবং সদ্য পৌঁছানো ‘জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ রণতরী। যদিও বর্তমানে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে, তবে চোরাগোপ্তা হামলা এখনও চলছে।
এই পরিস্থিতির কারণে ফোর্ডের ঘরে ফেরা মানেই যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠা, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রণতরীটির এই প্রত্যাবর্তন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ মাত্র। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার অন্যান্য রণতরীর উপস্থিতি প্রমাণ করে যে অঞ্চলটিতে এখনও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি এবং আগামী দিনে সংঘাতের তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
