১৩ বছরের সেবার প্রতিদান বহিষ্কার, ‘I WILL BE BACK!!’ তৃণমূল ছাড়তেই পালটা হুঙ্কার ঋজু দত্তর!

বিধানসভা নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছিল, তা এবার এক চরম নাটকীয় রূপ নিল। দলের দাপুটে মুখপাত্র ঋজু দত্তকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। পরাজয়ের ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে সরব হওয়া এবং দলবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগে এই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দলের একনিষ্ঠ কর্মীদের মধ্যে যেমন মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে, তেমনই রাজনৈতিক মহলে তৃণমূলের এই ‘শুদ্ধিকরণ’ অভিযান নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
দলবিরোধী মন্তব্যের জেরে নজিরবিহীন শাস্তি
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরপরই ঋজু দত্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের রণকৌশল এবং অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, অত্যন্ত স্পর্শকাতর সময়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যেই এই ধরণের মন্তব্য করা হয়েছে। এই শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণেই তাঁকে দীর্ঘ ৬ বছরের জন্য দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। এই পদক্ষেপের প্রধান কারণ হলো দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন করা এবং পরাজয়ের গ্লানি কাটিয়ে সংগঠনের রাশ শক্ত করা। তবে অভিজ্ঞ এই মুখপাত্রকে ছেঁটে ফেলায় দলের মিডিয়া প্যানেলে যে একটি বড় শূন্যতা তৈরি হলো, তা বলাই বাহুল্য।
১৩ বছরের আনুগত্য ও আগামীর চ্যালেঞ্জ
দলের এই সিদ্ধান্তে চরম ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন খোদ ঋজু দত্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি নিজেই এই খবর জানিয়ে লেখেন যে, দীর্ঘ ১৩ বছর দলকে নিজের সর্বস্ব দেওয়ার প্রতিদান এভাবেই তাঁকে পেতে হলো। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি বারবার দলের কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করলেও, বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে গৃহীত এই ব্যবস্থা তাঁকে ব্যথিত করেছে। তবে রাজনৈতিক লড়াইয়ে এখনই পিছু হটতে রাজি নন তিনি। পোস্টের শেষে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, ‘I WILL BE BACK!!’ বা ‘আমি ফিরবই’। ঋজুর এই হুঙ্কার আগামী দিনে তাঁর নতুন কোনো রাজনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়েই এখন তপ্ত রাজ্য রাজনীতি।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।
