১৪০ বছরের রেকর্ড ভাঙার মুখে ভারত! ধেয়ে আসছে ভয়ঙ্কর ‘সুপার এল নিনো’, আকাশ থেকে ঝরবে আগুন – এবেলা

১৪০ বছরের রেকর্ড ভাঙার মুখে ভারত! ধেয়ে আসছে ভয়ঙ্কর ‘সুপার এল নিনো’, আকাশ থেকে ঝরবে আগুন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

১৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ‘সুপার এল নিনো’-র ছায়া ভারতের ওপর, তীব্র দাবদাহ ও খরা পরিস্থিতির আশঙ্কা

মে মাসের শুরুতে অনেকেই ভেবেছিলেন হয়তো গরমের তীব্রতা এবার কিছুটা কমবে। কিন্তু প্রকৃতি অন্য রূপ ধারণ করতে চলেছে। দক্ষিণ আমেরিকা উপকূলে তৈরি হওয়া একটি আবহাওয়াগত পরিবর্তন এখন ভারতকে চিন্তায় ফেলেছে। গত ১৪০ বছরের রেকর্ড ভেঙে আবহাওয়াবিদেরা এক মহাবিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুপার এল নিনো’ (Super El Niño)। এর প্রভাবে দেশে তীব্র দাবদাহ, মারাত্মক লু-হাওয়া (Heatwave) এবং দুর্বল মৌসুমি বায়ুর কারণে খরা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

‘সুপার এল নিনো’ আসলে কী?

প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলের উপরিভাগের জলের তাপমাত্রা যখন স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি বৃদ্ধি পায়, তখন সেই চরম পরিস্থিতিকে ‘সুপার এল নিনো’ বলা হয়। গবেষকদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে এবার যে উষ্ণতা দেখা যাচ্ছে, তা গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ব্যতিক্রমী। ইন্দোনেশিয়া এবং আমেরিকা উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্রের জল অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে একটি বিপজ্জনক ‘ওয়ার্মিং রিং’ বা উষ্ণ বলয় তৈরি করেছে।

ভারতের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব

  • ভয়ানক দাবদাহ ও উষ্ণ রাত: ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD) ইতিমধ্যেই দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে তাপপ্রবাহ বা লু-এর সতর্কতা জারি করেছে। আগামী সপ্তাহগুলোতে কেবল দিনেই নয়, রাতের বেলাতেও অসহ্য ভ্যাপসা গরম ও চরম অস্বস্তিতে ভুগতে হবে সাধারণ মানুষকে।
  • দুর্বল বর্ষা ও কম বৃষ্টিপাত: ভারতে সাধারণত বর্ষাকালে গড়ে প্রায় ৮৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। তবে সুপার এল নিনোর প্রভাবে এবার তা কমে ৮০০ মিলিমিটারে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। স্বাভাবিকের তুলনায় এবার বর্ষা ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ।

কৃষি ও সাধারণ মানুষের ওপর বিপর্যয়

  • কৃষিক্ষেত্রে ক্ষতি: ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ কৃষক চাষবাসের জন্য সম্পূর্ণভাবে বৃষ্টির জলের ওপর নির্ভর করেন। মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়লে ধান, ডাল, আখ এবং তৈলবীজের মতো প্রধান ফসলের ফলন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে।
  • মূল্যবৃদ্ধি ও খরা: ফলন কম হওয়ার কারণে খাদ্যশস্যের সংকট তৈরি হতে পারে, যার সরাসরি প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে রাজস্থান, হরিয়ানা, পশ্চিম উত্তর প্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশে খরা ও চরম তাপপ্রবাহের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এই সংকটের প্রভাব শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকেও এর মাশুল গুনতে হবে। এর আগে ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালে বিশ্ববাসী যে আবহাওয়াগত বিপর্যয় প্রত্যক্ষ করেছিল, এবারও তার পুনরাবৃত্তির স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

এক ঝলকে

  • প্রশান্ত মহাসাগরের জল অস্বাভাবিক উত্তপ্ত হওয়ার কারণে ১৪০ বছরের রেকর্ড ভেঙে ধেয়ে আসছে ‘সুপার এল নিনো’।
  • এর প্রভাবে ভারতে তীব্র তাপপ্রবাহের পাশাপাশি গড় বৃষ্টিপাত ৮৭০ মিমি থেকে কমে ৮০০ মিমি-তে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
  • দেশের ৬০% চাষি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ধান, ডাল ও আখের ফলন কমে গিয়ে খাদ্যসামগ্রীর দাম একলাফে অনেকটা বাড়তে পারে।
  • রাজস্থান, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তর প্রদেশে খরার সতর্কতা জারি করা হয়েছে; ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে পারে অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোও।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *