১৪২ আসনে ভোটের আগে নজিরবিহীন মেগা অপারেশন! রাতভর পুলিশের জালে ৮০৯ জন দুষ্কৃতী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচন শুরুর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিল নির্বাচন কমিশন। গত কয়েকদিনের বিক্ষিপ্ত অশান্তির প্রেক্ষাপটে নজিরবিহীন সক্রিয়তা দেখিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রেকর্ড ৮০৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা এবং কলকাতার স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। ভোটের ঠিক মুখে প্রশাসনের এই সাঁড়াশি অভিযানে গোটা রাজ্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ
কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় দফায় কলকাতা ও শহরতলির যে ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে, সেখানে অবাধ ও ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি করাই এই মেগা অপারেশনের মূল উদ্দেশ্য। ধৃতদের মধ্যে যেমন দীর্ঘদিনের দাগি অপরাধীরা রয়েছে, তেমনই রয়েছে এলাকায় অশান্তি ছড়াতে পারে এমন সন্দেহভাজনরা। এর বড় অংশের বিরুদ্ধেই আগে থেকে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের এই যৌথ তল্লাশি অভিযান মূলত দুষ্কৃতী দমনের লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়েছে।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হচ্ছে সীমানা
দ্বিতীয় দফাকে নিশ্ছিদ্র করতে জেলা ও আন্তঃরাজ্য সীমানাগুলোতে কড়া নাকা চেকিং শুরু হয়েছে। সন্দেহভাজন কাউকে দেখা গেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধীরা একে এলাকা পরিচ্ছন্ন করার প্রক্রিয়া হিসেবে দেখলেও শাসক দলের পক্ষ থেকে বাহিনীর অতি সক্রিয়তা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে এই গণ-গ্রেফতারি ভোটের দিন বড়সড় অশান্তি রুখতে সহায়ক হবে বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা।
এক ঝলকে
- ১৪২টি আসনে ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে রাজ্যজুড়ে বিশাল তল্লাশি অভিযানে ধৃত ৮০৯ জন।
- কলকাতা ও দুই চব্বিশ পরগনার স্পর্শকাতর বুথগুলোতে রাতভর যৌথ অভিযান চালিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ।
- মূলত দাগি অপরাধী এবং জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্ট থাকা ব্যক্তিদের টার্গেট করেই এই মেগা অপারেশন চালানো হয়েছে।
- শান্তি বজায় রাখতে ও ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে আন্তঃজেলা সীমানা সিল করে নাকা চেকিং জোরদার করা হয়েছে।
