১৫টি হিংস্র কুকুরের দুর্গও আটকাতে পারল না পুলিশ, পরিচারিকার ঘরে মিলল ২ কেজি সোনা

দিল্লির শালিমার বাগ এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানালেন এক গৃহকর্মী। গৃহকর্তার বিশ্বাস ঘাতকতা করে কয়েক কোটি টাকার সোনা ও নগদ নিয়ে চম্পট দিয়েছিলেন ৪৫ বছর বয়সী কে সোনিয়া। নিজেকে আড়াল করতে এবং পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে তিনি নিজের বাড়িকে আক্ষরিক অর্থেই এক অভেদ্য দুর্গে পরিণত করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের বিশেষ অভিযানে সোনিয়ার সাজানো সেই দুর্গ তছনছ হয়ে যায়।
পিটবুল পাহারায় ডগ ফোর্ট্রেস
তদন্তে নেমে দিল্লি পুলিশ যখন অভিযুক্ত সোনিয়ার বাড়ির হদিস পায়, তখন তারা কার্যত থমকে যেতে বাধ্য হয়। সোনিয়া নিজের নিরাপত্তায় বাড়িতে ১৫টি অত্যন্ত হিংস্র প্রজাতির কুকুর পুষেছিলেন। পাহারাদারদের এই বাহিনীতে ছিল পিটবুল, আমেরিকান বুললি এবং বিভিন্ন উচ্চ প্রজাতির হাইব্রিড কুকুর। মূলত পুলিশ বা বাইরের কেউ যাতে বাড়িতে ঢুকতে না পারে, সেজন্যই এই পশুদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। পুলিশ বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে এই ‘ডগ ফোর্ট্রেস’-এ হানা দিলে সোনিয়াকে কম্বলের নিচে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়।
স্বর্ণঋণ চক্র ও অপরাধের জাল
গ্রেফতারের পর তল্লাশিতে পুলিশ অভিযুক্তের কাছ থেকে প্রায় ২ কেজি সোনা এবং নগদ ১ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, সোনিয়া মোটেও সাধারণ পরিচারিকা নন; তাঁর নামে আগেও একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। তিনি অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে চুরি করা সোনা বিভিন্ন ব্যাংক ও গোল্ড ফাইন্যান্স কো ম্পা নিতে বন্ধক রেখে লোন নিতেন। ইতিমধ্যে তাঁর নামে ১৫টি গোল্ড লোন অ্যাকাউন্টের সন্ধান মিলেছে এবং সেগুলোকে ফ্রিজ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর পুলিশ সাধারণ মানুষকে বাড়িতে সহায়তাকারী নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। যথাযথ পুলিশ ভেরিফিকেশন না করার ফলে যে আর্থিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়, এই ঘটনা তার একটি বড় উদাহরণ। এই চক্রে আরও কেউ জড়িত কি না তা জানতে তদন্তকারীরা জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এক ঝলকে
অভিযুক্ত সোনিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অপরাধমূলক মামলার রেকর্ড রয়েছে।
দিল্লির শালিমার বাগে পরিচারিকার ঘর থেকে ২ কেজি সোনা ও নগদ টাকা উদ্ধার।
গ্রেফতারি এড়াতে বাড়িতে ১৫টি হিংস্র প্রজাতির পিটবুল ও বুললি কুকুর পুষেছিলেন অভিযুক্ত।
চুরির সোনা কাজে লাগিয়ে ১৫টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে স্বর্ণঋণ চক্র চালাতেন সোনিয়া।
