‘১৫ দিনের মধ্যে ফিরুন!’ দলত্যাগীদের শেষ সুযোগ দিয়ে বড় বার্তা মমতার – এবেলা

‘১৫ দিনের মধ্যে ফিরুন!’ দলত্যাগীদের শেষ সুযোগ দিয়ে বড় বার্তা মমতার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিধানসভা ভোটে ধাক্কা এবং পরবর্তী দলীয় ভাঙনের চরম রাজনৈতিক আবহেই বড় চাল চাললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের দুর্দিনে যারা হাত ছেড়েছেন, সেই সমস্ত দলত্যাগীদের জন্য ফের দলের দরজা খুলে দিলেন তিনি। তবে সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন একটি স্পষ্ট শর্ত—দলে ফিরতে চাইলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই।

ফোনে বার্তা ও ১৯৯৮-এর স্মৃতি স্মরণ উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর এলাকায় আয়োজিত তৃণমূলের একটি সাংগঠনিক সভায় শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোনের মাধ্যমেই দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা ভোটের পর দলের একের পর এক সাংসদ-বিধায়ক ছেড়ে গেলেও নিজের মনোবলে স্থির থেকে নেত্রী জানান, বড় নেতাদের চেয়ে দলের নিচুতলার কর্মী-সমর্থকরাই তাঁর আসল শক্তি। ১৯৯৮ সালে যেভাবে নতুন করে দল গড়ে তুলেছিলেন, ঠিক সেইভাবেই এবারও কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়েই দলকে নতুন করে পুনর্গঠিত করবেন বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।

অভিষেকের বার্তার বিপরীতে নেত্রীর নরম সুর দলত্যাগী বা ‘গদ্দার’দের ফেরানোর বিষয়ে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সুস্পষ্ট মতভেদ রয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ নেতাদের একটি বড় অংশ সাফ দাবি তুলেছিলেন—বিপদের দিনে যারা দল ছেড়ে গদ্দারি করেছে, তাদের আর কোনভাবেই দলে জায়গা দেওয়া যাবে না। কিন্তু তাঁদের সেই কঠোর অবস্থান এড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের দলত্যাগীদের ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানানায় রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনকে নিশানা সাংগঠনিক সভার এই বক্তব্য থেকেই নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, জ্ঞানেশ কুমার পদে থাকা পর্যন্ত কেন্দ্রের শাসক দল বাড়তি রাজনৈতিক সুবিধা পেয়ে যাবে।

বর্তমানে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ও গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস—এই দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার টানাপোড়েনের মাঝে মমতার বেঁধে দেওয়া এই ১৫ দিনের ডেডলাইন দলত্যাগী নেতাদের ঘরে ফেরাতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *