‘১৫ বছর মাঠ চেয়েও পাইনি’, পুরনো আক্ষেপ ভুলে ফুটবলের নতুন ভোরে মহাগুরু – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 15, 202611:10 am
বাংলার হারানো ফুটবল-গৌরব ফেরাতে এবং তৃণমূল স্তর থেকে নতুন প্রতিভা তুলে আনতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিলেন বিশিষ্ট অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ‘বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি’ (Bengal Football Academy) তৈরির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন। তাঁর এই নতুন স্বপ্নের যাত্রায় সঙ্গী হয়েছেন কম্পটন দত্ত, মিহির বসু এবং অমিত ভদ্রের মতো ময়দানের স্বনামধন্য প্রাক্তন ফুটবলাররা।
অতীতের বঞ্চনা ও বর্তমানের নতুন দিশা এদিনের বৈঠকে অ্যাকাডেমি গড়ার পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে পুরনো ক্ষোভ উগরে দেন মহাগুরু। তিনি জানান, বহু বছর ধরেই তিনি এমন একটি অ্যাকাডেমি গড়ার স্বপ্ন দেখছেন, কিন্তু দীর্ঘ সময় কোনো সহযোগিতা মেলেনি। মিঠুন বলেন, “আমরা এখানে বসেছি বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি খোলার জন্য। গত ১৫ বছর এই সরকার আমাদের কিছুই দেয়নি। বিশেষ করে আমার কথা ভেবেই হয়তো মাঠ দেয়নি, কিছুই মেলেনি।”
তবে অতীতের সেই বঞ্চনার আক্ষেপ দূরে সরিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে সরকারের কাছ থেকে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস মিলেছে। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ও ক্রীড়ামন্ত্রীর ইতিবাচক মনোভাব এবং সাহায্যের ফলেই এই প্রজেক্ট আজ আলোর মুখ দেখতে চলেছে।
কীভাবে চলবে প্রতিভা অন্বেষণ? অ্যাকাডেমির জন্য খেলোয়াড় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে:
- প্রাক্তন ফুটবলারদের একটি বিশেষ স্কাউটিং দল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে প্রতিভা অন্বেষণ করবে।
- গ্রাম ও শহরের পাশাপাশি পাহাড় এবং আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলি থেকে জোর দিয়ে প্রতিভা তুলে আনা হবে।
- সব মিলিয়ে মোট ৬০ জন প্রতিভাবান তরুণকে বেছে নিয়ে শুরু হবে উন্নতমানের প্রশিক্ষণ।
মিঠুন চক্রবর্তীর কথায়, “আমার ইচ্ছে, আগামী এক-দুই বছরের মধ্যেই এই ছেলেরা যেন জুনিয়র দলে খেলার মতো তৈরি হয়ে যায়।”
কলকাতার বুকেই নতুন ঠিকানা জানা গিয়েছে, এই অ্যাকাডেমির পরিকাঠামো কলকাতার বুকেই গড়ে তোলা হবে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি মাঠের তালিকা নিয়ে আলোচনা চলছে। রাজ্য সরকারের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠ হস্তান্তরের কাজ মিটে যাবে। মহাগুরুর এই উদ্যোগ যে বাংলার ফুটবল মানচিত্রে এক বড়সড় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চলেছে, তা নিয়ে আশাবাদী ক্রীড়ামহল।
