১৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে স্ত্রীকে পড়ালেন স্বামী, রেলে চাকরি পেতেই স্ত্রী বললেন-গেট আউট! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজস্থানের এক যুবকের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভাগ্য। নিজের স্ত্রীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণ করতে পৈতৃক জমি বন্ধক রেখে ১৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন মণীশ নামের ওই ব্যক্তি। দিনরাত এক করে স্ত্রীকে পড়াশোনা করিয়ে রেলের গ্রুপ ডি-তে চাকরি পাওয়ার যোগ্য করে তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পর সাফল্য আসতেই পাল্টে যায় সম্পর্কের সমীকরণ। অভিযোগ উঠেছে, রেলে নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার মাত্র দু’মাসের মাথায় স্বামীকে ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন ওই নারী।
সাফল্যের নেপথ্যে বড় জালিয়াতি
ঘটনার মোড় ঘোরে যখন ক্ষুব্ধ স্বামী রেল কর্তৃপক্ষের কাছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেন। মণীশের দাবি, তাঁর স্ত্রী স্বপ্না পড়াশোনায় সাহায্য নিলেও পরীক্ষায় পাস করার জন্য অসদুপায় অবলম্বন করেছিলেন। নিজের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে পরীক্ষায় প্রক্সি বা ‘ডামি ক্যান্ডিডেট’ বসিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। প্রশিক্ষণের পর ফিরে এসে স্বপ্না যখন স্বামীর সঙ্গে থাকতে অস্বীকার করেন, তখনই সমস্ত জালিয়াতির কথা প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নেন প্রতারিত স্বামী।
রেলের কঠোর ব্যবস্থা ও তদন্ত
স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে নড়েচড়ে বসেছে রেল প্রশাসন। রেলের মহাপ্রবন্ধক ও ভিজিল্যান্স দপ্তরে প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে ওই নারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাঁর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে রেল বিভাগ। ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে প্রতারণা এবং সরকারি চাকরিতে জালিয়াতির এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি পুলিশের তদন্তাধীন।
এক ঝলকে
- রাজস্থানের এক ব্যক্তি ১৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে স্ত্রীকে উচ্চশিক্ষিত করেন।
- রেলে চাকরি পাওয়ার পরপরই ওই নারী স্বামীকে ত্যাগ করার ঘোষণা দেন।
- পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে রেল কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ওই নারীকে বরখাস্ত করেছে।
- জমি বন্ধক রেখে পড়াশোনার খরচ চালানো স্বামী এখন স্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই লড়ছেন।
