১৬ লাখ টাকা বিল বকেয়া, মালদায় তৃণমূল বিধায়কের মেয়ের স্কুলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মালদার রতুয়া এলাকায় প্রায় ১৬ লক্ষ টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার অভিযোগে একটি নামী বেসরকারি স্কুলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে বিদ্যুৎ বন্টন দপ্তর। স্কুলটি জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা মালতীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী-র মেয়ের নামে নিবন্ধিত বলে জানা গেছে। বছরের পর বছর বিল পরিশোধ না করায় এই বিপুল অঙ্কের বকেয়া তৈরি হয়, যা নিয়ে বর্তমানে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
বিদ্যুৎ বন্টন কো ম্পা নি সূত্রে খবর, স্কুলটির মূল বকেয়া বিল ছিল ১১ লক্ষ টাকা এবং এর সাথে আরও ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছিল। একাধিকবার নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর না মেলায় অবশেষে গত সপ্তাহে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়। এত বছর ধরে বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব বাকি থাকা সত্ত্বেও কেন আগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, শাসকদলের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই এতদিন এই বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল।
তীব্র কটাক্ষ ও জমি দখলের নতুন বিতর্ক
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই আসরে নেমেছে বিরোধী শিবির। উত্তর মালদা বিজেপির সহ-সভাপতি অভিষেক মিশ্র তীব্র কটাক্ষ করে দাবি করেছেন, শিক্ষার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করা হলেও সরকারি বিদ্যুৎ বিল মেটানো হয়নি। একই সাথে তিনি অভিযোগ তোলেন, রতুয়ার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সেচ দপ্তরের জমি দখল করে বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। জমি ফেরত না দিলে আগামীতে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ বন্টন দপ্তরের রিজিওনাল ম্যানেজার সৌমেন দাস জানিয়েছেন, বকেয়া না মেটানোতেই এই পদক্ষেপ এবং এই বিষয়ে একটি বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী ক্যামেরার সামনে মুখ না খুললেও আশ্বাস দিয়েছেন যে, বকেয়া বিল দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া হবে এবং ইতিমিধ্যেই কিছু অংশ পরিশোধ করা হয়েছে।
এক ঝলকে
- মালদার রতুয়ায় প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় একটি বেসরকারি স্কুলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
- স্কুলটি জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী-র মেয়ে রেজিনা খাতুনের নামে রয়েছে।
- ১১ লক্ষ টাকা মূল বিল ও ৫ লক্ষ টাকা জরিমানার নোটিশ দেওয়ার পরও সাড়া না মেলায় বিদ্যুৎ দপ্তর এই ব্যবস্থা নেয়।
- বিরোধীরা এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং সেচ দপ্তরের জমি দখলের পাল্টা অভিযোগ তুলেছে।
