১৮২ কোটির ‘জিহাদি ড্রাগ’ জব্দ! কী এই ‘ক্যাপ্টাগন’, কেন একে গরিবের কোকেন বলা হয়? – এবেলা

১৮২ কোটির ‘জিহাদি ড্রাগ’ জব্দ! কী এই ‘ক্যাপ্টাগন’, কেন একে গরিবের কোকেন বলা হয়? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারতে এই প্রথমবারের মতো বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদক ‘ক্যাপ্টাগন’ জব্দ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ‘অপারেশন রেজপিল’ (Operation RAGEPILL)-এর মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া এই মাদকের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য প্রায় ১৮২ কোটি টাকা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সাফল্যের কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মাদকটি মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছিল। বিশ্বজুড়ে এই মাদকটি ‘জিহাদি ড্রাগ’ এবং ‘গরিবের কোকেন’ নামেও পরিচিত। ভারতে এই প্রথম ক্যাপ্টাগন উদ্ধারের ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মাদক পাচার ও জঙ্গি অর্থায়নের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জিহাদি ড্রাগ নামাকরণের কারণ ও এর প্রভাব

মূলত ১৯৬০-এর দশকে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল এবং নারকোলেপসির মতো রোগের চিকিৎসার জন্য ‘ফেনেথাইলিন’ নামক এই সিন্থেটিক উদ্দীপক ওষুধটি তৈরি করা হয়েছিল। তবে এর মারাত্মক আসক্তি সৃষ্টিকারী উপাদানের কারণে পরবর্তীতে এটি আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। গোয়েন্দা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এই মাদকের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। এটি সেবনের পর মানুষের ভয়, ক্লান্তি এবং ক্ষুধা লোপ পায়। দীর্ঘদিন জেগে থাকার ক্ষমতা এবং অতিরিক্ত মাত্রায় আগ্রাসী মনোভাব তৈরি হওয়ার কারণে চরমপন্থীরা এটিকে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করে, যার ফলে এটি ‘জিহাদি ড্রাগ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

অবৈধ ল্যাব ও চোরাচালানের অর্থনৈতিক দিক

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বাজারে পাওয়া যাওয়া বেশিরভাগ ক্যাপ্টাগনই আসলে জাল। সিরিয়া, লেবানন এবং তুরস্কের মতো দেশের গোপন ল্যাবগুলোতে অ্যামফিটামিন, ক্যাফেইন এবং মেথাম্ফিটামিনের মতো রাসায়নিক মিশ্রিত করে এই বিপজ্জনক বড়িগুলো তৈরি করা হচ্ছে। অত্যন্ত কম উৎপাদন খরচের কারণে এটিকে ‘গরিবের কোকেন’ বলা হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা এবং মুনাফা আকাশচুম্বী। এই অবৈধ ব্যবসার অর্থ মূলত বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে সংগঠিত অপরাধ, চোরাচালান নেটওয়ার্ক এবং উগ্রপন্থী কার্যকলাপে অর্থায়নের জন্য ব্যবহৃত হয়। ভারতের এই সফল অভিযান মধ্যপ্রাচ্যগামী সেই অন্ধকার অর্থনৈতিক সরবরাহ লাইনে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • ‘অপারেশন রেজপিল’-এর মাধ্যমে ভারতে প্রথমবারের মতো ১৮২ কোটি টাকা মূল্যের ‘ক্যাপ্টাগন’ মাদক জব্দ করা হয়েছে।
  • এই মাদকটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যে পাচারের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছিল, যা উদ্ধার করে পাচারচক্রের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে।
  • ক্লান্তি, ভয় ও ক্ষুধা দূর করে অতিরিক্ত আগ্রাসী মনোভাব তৈরি করার কারণে চরমপন্থী মহলে এটি ‘জিহাদি ড্রাগ’ নামে পরিচিত।
  • সিরিয়া বা লেবাননের মতো দেশের গোপন ল্যাবে তৈরি হওয়া এই সস্তা সিন্থেটিক মাদকটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি অর্থায়নের অন্যতম বড় উৎস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *