১৮ থেকে ৪৪-এই থাবা বসাচ্ছে স্ট্রোক! প্রতি ৭ জনে ১ জন তরুণ রোগী, ICMR-এর রিপোর্টে চাঞ্চল্য

ভারতে এক সময় বার্ধক্যজনিত রোগ হিসেবে পরিচিত স্ট্রোক এখন ভয়ংকরভাবে হানা দিচ্ছে তরুণ প্রজন্মের শরীরে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)-এর সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের প্রতি ৭ জন স্ট্রোক রোগীর মধ্যে ১ জনের বয়স ১৮ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে। ৩৪ হাজারেরও বেশি রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা এই রিপোর্টটি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বর্তমানে ভারতে মৃত্যুর চতুর্থ প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এই রোগ।
পরিবর্তিত জীবনযাত্রা ও ঝুঁকির নেপথ্যে
গবেষণায় দেখা গেছে, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং আধুনিক খাদ্যাভ্যাস তরুণদের এই বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ধূমপান ও মদ্যপান এবং নারীদের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের আধিক্য স্ট্রোকের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। বিশেষত পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় ভারতীয় তরুণরা অনেক দ্রুত এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক পঙ্গুত্ব এবং কর্মক্ষমতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
চিকিৎসায় বিলম্ব ও সচেতনতার অভাব
স্ট্রোকের চিকিৎসায় প্রথম ৬০ মিনিট বা ‘গোল্ডেন আওয়ার’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভারতে সচেতনতার চিত্রটি বেশ হতাশাজনক। তথ্যমতে, প্রায় ৪০ শতাংশ রোগী উপসর্গ দেখা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর হাসপাতালে পৌঁছান এবং মাত্র ২০ শতাংশ রোগী সঠিক সময়ে চিকিৎসা পান। সচেতনতার অভাবে চিকিৎসার এই বিলম্ব মস্তিষ্কের অপূরণীয় ক্ষতি এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, শরীরচর্চা এবং তামাক বর্জনের মাধ্যমে এই মারণ রোগ প্রতিরোধ সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক ঝলকে
- ভারতে প্রতি ৭ জন স্ট্রোক আক্রান্তের মধ্যে ১ জনের বয়স ১৮ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে।
- মোট আক্রান্তের প্রায় ১৩.৮ শতাংশই তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি।
- সঠিক সময়ে বা ‘গোল্ডেন আওয়ারে’ চিকিৎসা পাচ্ছেন মাত্র ২০ শতাংশ রোগী।
- উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার স্ট্রোকের প্রধান অনুঘটক।
