১ কোটি তরুণকে AI ট্রেনিং থেকে ‘দিমাগি নকশাল’ হুঁশিয়ারি: স্বাধীনতা দিবসে মোদীর বড় ঘোষণা! – এবেলা

১ কোটি তরুণকে AI ট্রেনিং থেকে ‘দিমাগি নকশাল’ হুঁশিয়ারি: স্বাধীনতা দিবসে মোদীর বড় ঘোষণা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহাসিক লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশ্যে এক যুগান্তকারী ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। টানা ত্রয়োদশবার স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ দিয়ে জওহরলাল নেহরুর পর দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। ছাত্র আন্দোলন এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের আবহে দেওয়া প্রায় ৭৫ মিনিটের এই দীর্ঘ ভাষণে তিনি ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার সুদূরপ্রসারী রূপরেখা তুলে ধরেন।

Gen Z ও যুবশক্তির জন্য বড় উপহার দেশের অর্ধেকেরও বেশি জনসংখ্যা ৩৫ বছরের নিচে—এই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যুব সমাজকে ‘বিকশিত ভারত’-এর প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। Gen Z ও তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তিতে পারদর্শী করতে তিনি ১ বছরের মধ্যে ১ কোটি তরুণ-তরুণীকে বিনামূল্যে AI (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘোষণা দেন। এর পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি সহজ করতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং চালু করার কথাও জানান।

‘সপ্তধারা’ রোডম্যাপ ও আত্মনির্ভরতা দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রাচীন ‘সপ্তসিন্ধু’র ধারণার আদলে ৭ দফার একটি নতুন ‘সপ্তধারা’ সংস্কার কাঠামো পেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এর মূল ক্ষেত্রগুলো হলো—উৎপাদন, কৃষি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, গতি শক্তি, প্রতিরক্ষা, শক্তি নিরাপত্তা এবং সফট পাওয়ার। সেমিকন্ডাক্টর, খনিজ পদার্থ এবং শক্তি নিরাপত্তায় দেশকে দ্রুত ‘আত্মনির্ভর’ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

‘দিমাগি নকশাল’ ও রাজনৈতিক কড়া বার্তা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি নতুন শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন—‘দিমাগি নকশাল’ (মানসিক নকশাল)। তিনি বলেন, জঙ্গলের সশস্ত্র নকশালদের দমন করা গেলেও সমাজের অলিন্দে লুকিয়ে থাকা এই মানসিকতার মানুষেরা দেশের অভ্যন্তরে বিভাজন ও নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে, যাদের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করা প্রয়োজন। এছাড়া, সংসদে মহিলাদের জন্য ৩৩% সংরক্ষণ বিল কার্যকর করতে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে বিরোধীদের একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

২০৩৬ অলিম্পিক ও দেশজুড়ে ক্রীড়া প্রতিভার খোঁজ ক্রীড়াক্ষেত্রে ভারতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন নমো। এই যাত্রায় ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনকে মূল ধাপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্য থেকে বিশ্বমানের অ্যাথলিট তৈরি করতে দেশজুড়ে বিশেষ ‘ট্যালেন্ট হান্ট’ বা প্রতিভা অন্বেষণ অভিযান চালানো হবে।

সামগ্রিকভাবে, ত্রয়োদশতম ভাষণে প্রযুক্তি, সুরক্ষা, অলিম্পিকের স্বপ্ন এবং যুবসমাজকে প্রাধান্য দিয়ে মোদী আগামী দিনের এক শক্তিশালী ভারতের ব্লু-প্রিন্ট সামনে রাখলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *