১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে ‘জিরামজি’, ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি দিল কেন্দ্র

১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে ‘জিরামজি’, ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি দিল কেন্দ্র

গ্রামীণ ভারতের কর্মসংস্থানে আমূল পরিবর্তন আনতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। দীর্ঘদিনের পরিচিত ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের খোলনলচে বদলে এবার চালু হচ্ছে ‘বিকশিত ভারত- গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা সংক্ষেপে ‘ভিবি-জিরামজি’ (VB-G RAMG)। সোমবার কেন্দ্রের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হবে এই নতুন মিশন। রাষ্ট্রপতির সিলমোহর পাওয়ার পর এবার এই প্রকল্পের জন্য বিপুল আর্থিক বরাদ্দও ঘোষণা করা হয়েছে।

৯৬ হাজার কোটির বিপুল বরাদ্দ ও নতুন সময়সীমা

সংসদে বিল পাশের পর এদিন কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পের জন্য ৯৫ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানিয়েছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা রেখেই এই নতুন কাঠামো সাজানো হয়েছে। নতুন নিয়মে কাজের দিনসংখ্যা ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। অর্থাৎ, গ্রামীণ এলাকার প্রতিটি পরিবারের সাবালক স্বেচ্ছাসেবকরা বছরে অন্তত ১২৫ দিনের নিশ্চিত কাজ পাবেন। মজুরি সরাসরি শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিস অ্যাকাউন্টে পাঠানোর (DBT) পাশাপাশি ১৫ দিনের মধ্যে টাকা মেটানোর কড়া সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে টাকা না পেলে শ্রমিকদের আইনত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সংস্থানও রাখা হয়েছে এই প্রকল্পে।

পুরনো জব কার্ডের ভবিষ্যৎ ও বর্তমান স্থিতি

প্রকল্পের নাম ও কাজের ধরন বদলে গেলেও পুরনো জব কার্ড গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। বর্তমান জব কার্ডগুলো সম্পূর্ণ বৈধ থাকবে এবং ১ জুলাইয়ের মধ্যে পুরনো ব্যবস্থা থেকে ‘জিরামজি’ মিশনে রূপান্তরের প্রক্রিয়াটি প্রশাসনিক স্তরে সম্পন্ন করা হবে। কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মাস্টার রোল বন্ধ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই মজুরি প্রক্রিয়াকরণ শুরু করতে হবে।

বাংলার প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য

পশ্চিমবঙ্গে ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ঠিক পরেই কেন্দ্রের এই ঘোষণা রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যে ১০০ দিনের কাজের বকেয়া এবং দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এবার নতুুুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই কেন্দ্রের এই নয়া প্রকল্পের পূর্ণ সুবিধা বাংলার মানুষ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কর্মসংস্থানের এই নতুন সুযোগ রাজ্যের প্রান্তিক মানুষের আর্থিক অনটন দূর করতে বড় ভূমিকা নেবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *