২০ লাখ টাকা খোরপোশ নিয়েও স্বামীর নামে যৌতুকের মামলা! হাইকোর্টের নজিরবিহীন রায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
জয়পুর: পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে ডিভোর্স এবং ২০ লাখ টাকা স্থায়ী খোরপোশ (Alimony) পাওয়ার পরেও স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা জারি রাখা আইন ব্যবস্থার চরম অপব্যবহার। এক বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এমনই এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন মন্তব্য করল রাজস্থান হাইকোর্ট। স্বামীর বিরুদ্ধে হওয়া যৌতুক নির্যাতনের মামলাটি পুরোপুরি খারিজ করে দিয়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে মানসিকভাবে হেনস্থা করার জন্য দেশের আইন ও আদালতকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ:
বিচারপতি অনুপ কুমার ধান্দের সিঙ্গল বেঞ্চ এই মামলার রায় দিতে গিয়ে সমাজের এক উদ্বেগজনক ট্রেন্ডের দিকে আঙুল তুলেছেন। আদালত জানায়, “উভয় পক্ষের মধ্যে চুক্তি হয়ে যাওয়ার পর, খোরপোশের টাকা পেয়েও মামলা প্রত্যাহার না করে স্বামী ও তাঁর পরিবারকে বছরের পর বছর আইনি লড়াইয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া এবং তাঁদের আর্থিক ক্ষতি করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। চুক্তি অনুযায়ী সমস্ত সুবিধা নেওয়ার পর স্ত্রী নিজের বয়ান থেকে পিছু হটতে পারেন না। এমনটা করলে তা বিচার ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার শামিল।”
ঠিক কী ঘটেছিল?
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক নির্যাতনের মামলা চলাকালীনই ডিভোর্সের আবেদন করেছিলেন স্বামী। ফ্যামিলি কোর্ট সেই আবেদন মঞ্জুর করলে স্ত্রী উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ জানান। পরবর্তীতে দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে বসে একটি আপস-চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী, স্ত্রী ডিভোর্সে রাজি হন এবং স্বামী স্থায়ী খোরপোশ বাবদ স্ত্রীকে এককালীন ২০ লক্ষ টাকা পরিশোধ করেন।
টাকা নিয়েও সাক্ষ্য দিতে না আসার ছক!
স্বামীর আইনজীবীর অভিযোগ, চুক্তির ২০ লাখ টাকা পকেটে পুরে নেওয়ার পরেও ওই মহিলা ফৌজদারি মামলাটি প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করেন। শুধু তাই নয়, ২০১৮ সালে মামলা রুজু হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত ওই মহিলা বা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য আদালতে একবারের জন্যও সাক্ষ্য দিতে আসেননি।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে রাজস্থান হাইকোর্ট সাফ জানিয়ে দেয়, কেবল আইন অক্ষরে অক্ষরে পালন করাই আদালতের কাজ নয়, প্রকৃত ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করাও প্রধান লক্ষ্য। এরপরই আদালত ওই স্বামী এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে থাকা যৌতুক ও বধূ নির্যাতনের সমস্ত ফৌজদারি মামলা সম্পূর্ণভাবে খারিজ (Quashed) করে দেয়।
