২১ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতে সুজিত বসু, রেস্তোরাঁ ব্যবসায় বিপুল টাকা সাদা করার অভিযোগে চাঞ্চল্য!

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড়সড় মোড় নিয়ে ইডি হেফাজতে গেলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল আদালত প্রাক্তন মন্ত্রীকে আগামী ২১ মে পর্যন্ত ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। মূলত ‘মানি লন্ডারিং’ বা কালো টাকা সাদা করার গুরুতর অভিযোগেই তাঁকে নিজেদের জেরা করতে চায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
রেস্তোরাঁ ব্যবসার আড়ালে বিপুল লেনদেন
তদন্তকারী সংস্থা ইডির দাবি, গত সাত বছরে সুজিত বসু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন বিভিন্ন রেস্তোরাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮ কোটি টাকার হদিশ মিলেছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি প্রাক্তন মন্ত্রী। বিশেষ করে করোনাকালে যখন লকডাউনের জেরে সমস্ত ব্যবসা বন্ধ ছিল, সেই সময় তাঁর একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁর অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিকভাবে প্রায় ২ কোটি টাকা জমা পড়ে। ইডির সন্দেহ, নিয়োগ দুর্নীতির মাধ্যমে সংগৃহীত কালো টাকা এই রেস্তোরাঁ ব্যবসার মাধ্যমেই আইনি পথে ঘোরানো হয়েছে।
নিয়োগ দুর্নীতি ও অয়ন শীল সংযোগ
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত অয়ন শীলকে জেরা করে সুজিত বসুর সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গেছে। ইডির দাবি অনুযায়ী, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে অন্তত ১৫০ জনের একটি তালিকা রয়েছে যাঁরা সুজিত বসুর মাধ্যমে নিযুক্ত হয়েছিলেন। অভিযোগ উঠেছে যে, চাকরির বিনিময়ে শুধু নগদ টাকাই নয়, স্থাবর সম্পত্তি বা ফ্ল্যাটও নেওয়া হয়েছে। এমনকি সংগৃহীত এই অর্থ শেয়ার বাজারেও খাটানো হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন গোয়েন্দারা। এই বিশাল আর্থিক সাম্রাজ্য ও নিয়োগ দুর্নীতির জাল কতদূর বিস্তৃত, তা বের করতেই ২১ মে পর্যন্ত টানা জিজ্ঞাসাবাদ চালাবেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। এই গ্রেফতারি ও দীর্ঘ হেফাজত রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
