‘৩০ লক্ষ ভোটার বঞ্চিত’, জনমত নিয়ে প্রশ্ন তুলে হার মানতে নারাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন ঘটে গেল। একদিকে যখন রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বিরোধী’ আসনে বসার বার্তা দিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে এটি একটি বড় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর তৃণমূলকে শাসক থেকে বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হলো।
ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বার্তায় পরাজয় স্বীকার করে নিলেও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এবারের নির্বাচনে প্রায় ৩০ লক্ষ প্রকৃত ভোটারকে তালিকা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ছিল চূড়ান্ত পক্ষপাতদুষ্ট। ইভিএম স্থানান্তর, নিয়ন্ত্রণ ইউনিটে অসঙ্গতি এবং ভোট গণনার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই নির্বাচন ছিল গণতন্ত্রের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ।
গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই ও আগামীর অঙ্গীকার
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিষেকের এই অবস্থান দলের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখার একটি কৌশল। ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেছেন, তৃণমূল কর্মীদের ওপর বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালানো হচ্ছে। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি জানিয়েছেন, গণতন্ত্রে কাউকে নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার মধ্যে যে কোনো একটি বেছে নিতে বাধ্য করা উচিত নয়। যেকোনো সমস্যায় কর্মীদের সরাসরি তাঁর সাথে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আইনি লড়াইয়েরও আশ্বাস দিয়েছেন।
বিরোধীর ভূমিকায় তৃণমূল
রাজ্য এবং জাতীয় স্তরে তৃণমূল এখন থেকে একটি শক্তিশালী এবং আপসহীন বিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে অভিষেক ঘোষণা করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলন জারি রাখার কথা বলেছেন তিনি। এই পরিবর্তনের ফলে রাজ্যের বিধানসভায় শাসক-বিরোধী দ্বৈরথ এক নতুন মাত্রা পেতে চলেছে, যেখানে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ইস্যুতে তৃণমূল তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
এক ঝলকে
- শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের দিনে তৃণমূলের ‘বিরোধী’ আসনে বসার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অভিষেকের।
- নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের এবং ৩০ লক্ষ ভোটারকে বঞ্চিত করার অভিযোগ।
- ইভিএম এবং ভোট গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন তুলল ঘাসফুল শিবির।
- আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের পাশে থাকতে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগের সুযোগ ও আইনি সহায়তার প্রতিশ্রুতি।
