৩০ হাজার গাছ লাগিয়েও মিলিন্দের বুকে কেন বিষাদের সুর – এবেলা

৩০ হাজার গাছ লাগিয়েও মিলিন্দের বুকে কেন বিষাদের সুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

জনপ্রিয় সুপারমডেল ও অভিনেতা মিলিন্দ সোমান অবিশ্বাস্য ফিটনেসের পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার জন্য পরিচিত। সুঠাম চেহারার এই তারকা ব্যক্তিগত উদ্যোগে লোনাভালায় নিজের জায়গায় ৩০ হাজারেরও বেশি গাছ লাগিয়েছিলেন। তবে ইট-পাথরের শহরে এবং বাণিজ্যিক আগ্রাসনে প্রতিনিয়ত গাছ কাটার নির্মম বাস্তবতা ও গাছ নষ্ট হওয়ার যন্ত্রণা তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের রোপণ করা সবুজ ধ্বংসের ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ওরা সব পুড়িয়ে দিচ্ছে’।

১৯৯৭ সালে লোনাভালায় জায়গা কেনার পর থেকেই এলাকাটিকে সবুজে ভরিয়ে তোলার উদ্যোগ নেন মিলিন্দ। এর প্রধান কারণ ছিল পূর্ববর্তী সময়ে জমি পরিষ্কার বা মানুষের অসচেতনতার কারণে পুরো এলাকাটি পুড়িয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার বা আবাসন ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের জমি দেখানোর জন্য নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলে, যা প্রকৃতির অপূরণীয় ক্ষতি করছে বলে মনে করেন এই অভিনেতা।

শহরায়নের থাবা ও পরিবেশগত বিপর্যয়

আধুনিক নগরায়ণ ও আবাসন প্রকল্পের নামে সবুজ ধ্বংসের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। মিলিন্দের মতে, লোনাভালার মতো প্রাকৃতিক অঞ্চলেও গাছ পুড়িয়ে বা কেটে ফেলার এই বাণিজ্যিক মানসিকতা স্থানীয় জলবায়ুর ভারসাম্য নষ্ট করছে। গাছপালা উজাড় হওয়ার ফলে মাটির ক্ষয় বাড়ছে এবং অঞ্চলের তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের এই ক্ষণস্থায়ী বাণিজ্যিক লাভ দীর্ঘস্থায়ী পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনছে, যা জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকি।

সবুজ স্নান ও মানসিক সুস্থতার বার্তা

মিলিন্দ সোমান কেবল গাছ লাগিয়েই ক্ষান্ত হননি, তিনি জাজল থেরাপি ‘শিনরিন-ইয়োকু’ বা ‘ফরেস্ট বাথিং’ (অরণ্য স্নান)-এর একনিষ্ঠ অনুসারী। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে প্রকৃতির সবুজ দৃশ্যপট, শব্দ ও সুবাসের মধ্যে মানুষ নিজেকে পুরোপুরি নিমজ্জিত করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানেও প্রমাণিত যে, এই পদ্ধতি মানুষের মানসিক চাপ কমাতে এবং শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে দারুণ কার্যকর। প্রকৃতি ধ্বংসের কারণে মানুষ কেবল তার ফুসফুস হারাচ্ছে না, বরং মানসিক প্রশান্তি লাভের প্রাকৃতিক উৎস থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

হিন্দি সিনেমা বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কাজের ফাঁকে মিলিন্দ এখনো প্রকৃতির মাঝেই জীবনের আসল সার্থকতা খোঁজেন। তবে তাঁর এই ব্যক্তিগত সবুজায়নের লড়াই সমাজ ও প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। নির্বিচারে গাছ কাটা এবং পরিবেশ ধ্বংসের এই ধারা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *